ছেলে হত্যার বর্ণনা দিয়ে নানক-তাপসদের শাস্তি চাইলেন শহীদ ফাইয়াজের বাবা

প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ
ছেলে হত্যার বর্ণনা দিয়ে নানক-তাপসদের শাস্তি চাইলেন শহীদ ফাইয়াজের বাবা
শহীদ ফারহান ফাইয়াজ। সংগৃহীত ছবি

অনলাইন ডেস্ক: জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ফারহান ফাইয়াজ ও মাহমুদুল রহমান সৈকতসহ ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া।

আজ বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি এই জবানবন্দি প্রদান করেন।

জবানবন্দিতে শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে ফারহান ফাইয়াজ ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকাল ১০টায় সে বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে যায় এবং সেখান থেকে বন্ধুদেরসহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়। কিন্তু তৎকালীন সরকারের পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়, যার একটি বুলেট ফারহানের বুকে গিয়ে বিদ্ধ হয়।’

ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ধানমন্ডি ও লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালে পৌঁছানোর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি হাসপাতালে পৌঁছানোর পর এক বীভৎস অবস্থা দেখতে পাই। অনেক ছাত্র রক্তে রক্তাক্ত হয়ে কাতরাচ্ছিল। আইসিইউতে গিয়ে দেখলাম ফারহানের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো। একপর্যায়ে ডাক্তার ওর মুখের মাস্ক খুলে দিয়ে কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে দিল, তখনই বুঝলাম আমার ছেলে আর নেই। মৃত্যু সনদে লেখা ছিল সে ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছে।’

জানাজা ও লাশ দাফনে তৎকালীন পুলিশ ও আওয়ামী লীগের বাধার বিবরণ দিয়ে শহীদ ফাইয়াজের বাবা উল্লেখ করেন, ‘হাসপাতাল পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন ঘিরে রেখেছিল। অনেক কষ্টে পিছনের গেট দিয়ে লাশ বের করে কলেজের মাঠে বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রথম জানাজা সম্পন্ন করি। এরপর লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি রূপগঞ্জের বরপার উদ্দেশ্যে রওনা হলে কাকরাইল মোড় এবং যাত্রাবাড়ী মোড়ে আমাদের গাড়ি ভাঙচুর ও লাশ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর লাশ দাফন করার জন্য আমাদের মাত্র ৪০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে সামাজিক কবরস্থানে কবরস্থ করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভিডিও ফুটেজ ও গণমাধ্যমের সূত্র ধরে আমি আসামিদের শনাক্ত করেছি।’ মামলায় তিনি সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, এডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ নামীয় ১৫ জন ও অজ্ঞাত আরও ৫-৭ জনকে আসামি করার কথা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

মন্তব্য করুন