কালিহাতীতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশ: রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ণ
কালিহাতীতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

সুমন ঘোষ, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ১৬৯ নম্বর ভাওয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালে শিক্ষার প্রসারে ‘ভাওয়াল পল্লী উন্নয়ন যুব সমিতি’র উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়ে এটি ‘১৬৯ নম্বর ভাওয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে জারিফা পারভীন নামে একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের তীব্র অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের মুখে মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তিনি বদলি হয়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর থেকে আব্দুর রাজ্জাক একচ্ছত্রভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, পরীক্ষার ফি বাবদ নিয়মবহির্ভূত টাকা নেওয়া, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি ক্ষুদ্র সংস্কার বরাদ্দের টাকা যথাযথভাবে ব্যয় না করার অগণিত প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের কোনো অডিট বা জবাবদিহিতা নেই। এমনকি বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদেরও এসব হিসাব থেকে দূরে রাখা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক নথিপত্রে ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক’ না লিখে নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘প্রধান শিক্ষক’ হিসেবে সিল ও স্বাক্ষর করছেন। বিদ্যালয়ের সরকারি দুটি কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার ও মাল্টিমিডিয়াসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিজের বাসায় এনে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন তিনি।

বিভিন্ন প্রশাসনিক নথিতে তাঁর ‘প্রধান শিক্ষক’ সিলের পাশাপাশি ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিএম ফুয়াদের অনুমোদিত স্বাক্ষরও দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিদ্যালয়ের টয়লেট পরিষ্কার করানোর মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও শ্রেণি কক্ষের নষ্ট বৈদ্যুতিক পাখাগুলো মেরামত না করায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান।

এ বিষয়ে ভাওয়াল গ্রামের শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বিগত বছরের সব আয়-ব্যয়ের নিরপেক্ষ অডিট করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক কিছু অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, "'ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক' না লিখে 'প্রধান শিক্ষক' হিসেবে সিল-স্বাক্ষর করার বিষয়টি সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিএম ফুয়াদ মিয়াকে অবহিত করেই করেছি।" সরকারি কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বাসায় রাখা ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন। তবে মামলা জটিলতার কারণে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়ন আটকে আছে বলে দাবি করেন তিনি।

সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এএটিও) জিএম ফুয়াদ বলেন, "মামলার কারণে প্রধান শিক্ষক পদায়ন বন্ধ রয়েছে। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কীভাবে 'প্রধান শিক্ষক' সিল ব্যবহার করছেন, তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

অভিযোগের বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুলসুম সোলায়মানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন