সোনারগাঁওয়ে সরকারি স্কুলে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশ: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ অপরাহ্ণ
সোনারগাঁওয়ে সরকারি স্কুলে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ‘মোগরাপাড়া এইচ.জি.জি.এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যায়তন’-এ (সাবেক হরিদাস গৌর গোবিন্দ শ্যামসুন্দর স্মৃতি বিদ্যায়তন) সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে খণ্ডকালীন শিক্ষকের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কম খরচে সরকারি স্কুলে ভালো মানের শিক্ষার আশায় সন্তানদের ভর্তি করিয়ে এখন অতিরিক্ত খরচের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন বলে দাবি ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের।

স্থানীয় ও অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট সরকারি করা হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৭শ ৩৫ থেকে ৭শ ৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেখানে একজন শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন মাত্র ১০ টাকা, সেখানে খণ্ডকালীন শিক্ষক বাবদ প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া টিফিন বাবদ মাসে ১০০ টাকা নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের নামে মাত্র টিফিন দেওয়া হয়। নিয়মিত কম্পিউটার ক্লাস না করিয়েও কম্পিউটার ল্যাব ফি বাবদ নেওয়া হচ্ছে ১৫০ টাকা। এর বাইরে ম্যাগাজিন ফি ও উন্নয়ন ফিসহ নানা অজুহাতে বছরজুড়েই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মহোৎসব চলছে।

টাকা আদায়ের পাশাপাশি খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগেও উঠেছে চরম স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বা উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের স্ত্রী, মেয়ে, ছেলের বউসহ নিকটাত্মীয়দের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বিদ্যালয় সূত্র জানায়, সরকারি গেজেট অনুযায়ী ৩ মাসের বেতন ৩০ টাকা, টিফিন ৩০০ টাকা, খণ্ডকালীন শিক্ষক ফি ৩০০ টাকা, নিরাপত্তা ফি ৪৫ টাকা এবং কম্পিউটার ফি ৬০ টাকাসহ মোট ৭৩৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ে স্থায়ী শিক্ষক সংকট থাকায় পাঠদান সচল রাখতে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হয়েছে এবং তাদের বেতনের জোগান দিতেই এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

তবে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন শিক্ষকের বেতন শিক্ষার্থীদের টাকায় পরিশোধ করা কতটা বৈধ, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা মোগরাপাড়া সরকারি স্কুলের এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন