জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত হকার বসতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক
রাজধানীর গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যস্ততম সড়কে কোনো প্রকার হকার বা ভাসমান দোকান বসতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে রাজধানীর পল্টনে মেট্রো রেল স্টেশনের নিচে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল ও তীব্র যানজট নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী সদরঘাট পর্যন্ত সড়কটি পুরান ঢাকার প্রধান সংযোগস্থল। এই দীর্ঘ সড়কে কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না। ফুটপাত ও মূল সড়ক পুরোপুরি দখলমুক্ত রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মনিটরিং টিম নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবে।”
হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও শৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “হকারদের কথা বিবেচনা করে বাণিজ্য এলাকা মতিঝিলে প্রতিদিন বিকেল ৪টার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নাইট মার্কেট’ চালু করা হয়েছে। সেখানে নির্ধারিত সময়ের জন্য সুশৃঙ্খলভাবে হকাররা তাঁদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।”
পরিবেশ সুরক্ষায় সিটি করপোরেশনের মহাপরিকল্পনা তুলে ধরে আব্দুস সালাম বলেন, “সারাদেশে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৩ লাখ গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যমাত্রার আওতায় ইতিমধ্যে দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন সড়কদ্বীপ, উন্মুক্ত স্থান ও প্রতিষ্ঠানে ৭০ হাজার বৃক্ষ সফলভাবে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।”
পুরান ঢাকার পরিবেশগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “দক্ষিণ সিটি মূলত শতবর্ষী পুরান ঢাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠায় ঐতিহাসিকভাবে এটি একটি অপরিকল্পিত শহর। ফলে নাগরিক অসচেতনতা ও তদারকির অভাবে যত্রতত্র ভাসমান দোকানপাট, অস্থায়ী বাজার ও অননুমোদিত ক্ষুদ্র কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব ভাসমান ও ফুটপাতের দোকানগুলো প্রতিনিয়ত শহরের পরিবেশ দূষিত করছে।”
নগরীর বায়ু ও পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে এনে ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নানামুখী সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।