নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নোংরা ভাষার জবাব দেওয়া ঠিক হয়নি: রাশেদ খান
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে অতীতের এক টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া কঠোর ও অপ্রীতিকর মন্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। একই সাথে ভবিষ্যতে ভাষার ব্যবহারে আরও সংযত হয়ে নিজেকে শুধরে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি এই রাজনৈতিক আত্মমূল্যায়ন ও বক্তব্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান অতীতের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে লেখেন, “এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কর্তৃক অতীতে জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী, কন্যা এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ধারাবাহিক কটূক্তি, অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় আক্রমণ করার প্রেক্ষিতে বেশ কয়েক মাস আগে আমি অসাবধানতাবশত এক টিভি টকশোতে একটি কড়া উদাহরণ টেনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলাম।”
তিনি উল্লেখ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে ব্যক্তি আক্রমণ করায় তখন তীব্র ক্ষোভ ও তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। এমনকি ব্যক্তিগত পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি না বলার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তিনি তা ভঙ্গ করেছিলেন বলে দাবি করেন রাশেদ খান।
তবে শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শ ও নিজের নৈতিক উপলব্ধির কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী লেখেন, “সর্বশেষ মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের সাংবিধানিক পদমর্যাদা ও যোগ্যতা নিয়েও তাঁর তীর্যক মন্তব্য আপনারা লক্ষ্য করেছেন। তবুও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো নোংরা ভাষার জবাব পাল্টা নোংরা ভাষায় দেওয়া আমার মোটেও ঠিক হয়নি—এমনটাই মনে করেন দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আমার অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষ।”
তিনি আরও লেখেন, “আমার সেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াটি ছিল মূলত ‘ইটের বদলে পাটকেল’ বা টিট ফর ট্যাটের মতো। কিন্তু ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথে আমরা চেয়েছি ইতিবাচক দেশ গঠন, মানুষের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সামগ্রিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে। আর এ কারণেই আমার অবস্থান থেকে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাষাগত ভুল ও ত্রুটি হয়েছিল, তা আমি নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করছি এবং ভবিষ্যতে নিজেকে আরও শুধরে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। আমাদের সবারই উচিত অন্ধ বিদ্বেষ পরিহার করে গঠনমূলক সমালোচনা এবং সহনশীল পরিশীলিত রাজনীতির পরিবেশ তৈরি করা।”
নিজের রাজনৈতিক অতীত স্মরণ করে রাশেদ খান লেখেন, “২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ও দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আমি সবসময় সহনশীলতা বজায় রাখা এবং ভাষার পরিমিত ব্যবহারে সতর্ক থাকার আন্তরিক চেষ্টা করেছি। আমার এই সতর্কতা ও ইতিবাচক প্রয়াস ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।”
সবশেষে রাজনীতিকদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি লেখেন, “আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, সমাজে পারস্পরিক ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে আমরা কেউই দিনশেষে লাভবান হতে পারব না। এতে কেবল সেই অগণতান্ত্রিক অপশক্তিই লাভবান হবে, যারা দেশকে নেতৃত্বহীন করে বিরাজনীতিকরণের অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় বসে থাকে।”