আমার কথা বলে তাহেরী হুজুর আলোচনায় থাকতে চান: সামান্তা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
আমার কথা বলে তাহেরী হুজুর আলোচনায় থাকতে চান: সামান্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক:হিজাব ও বোরকা পরিধান করে ড্রামস বাজানোর পারফরম্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে রাতারাতি নেটদুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন তরুণী নাজিয়া সামান্তা. তবে সম্প্রতি দেশের অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী এক ওয়াজ মাহফিলে এই হিজাবি ড্রামারকে নিয়ে একটি বিশেষ মন্তব্য করেন, যা নিয়ে অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়. এবার সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের স্পষ্ট অবস্থান ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাজিয়া সামান্তা. তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেছেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে ওয়াজের মঞ্চে কথা বলার মাধ্যমে তাহেরী হুজুর মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইমলাইটে বা আলোচনায় থাকতে চান.

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ২টা ৩৯ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন, গ্ল্যামার, লাইফস্টাইল ও তারকা খতিয়ান’ এবং ‘সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড, ভাইরাল কনটেন্ট ও পাবলিক রিঅ্যাকশন ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে সামান্তা ও তাহেরীর এই পাল্টাপাল্টি ইস্যুর বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো.

সাক্ষাৎকারে নাজিয়া সামান্তা অতীতের একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে একটি গণমাধ্যমকে জানান, কিছুদিন আগে একসময় তাহেরী হুজুরের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছিল. সেই সময় অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তাহেরী হুজুর তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে সামান্তা বর্তমানে কী করছেন. জবাবে সামান্তা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের নিয়মিত সংগীতচর্চা ও ড্রামস বাজানোর কথা উল্লেখ করেন. নাজিয়ার দাবি, সামান্তার মুখে ড্রামস বাজানোর কথা শোনার পরও তখন তাহেরী হুজুর তাঁর এই আধুনিক সংগীতচর্চা নিয়ে সামনাসামনি কোনো ধরণের আপত্তি বা নেতিবাচক মন্তব্য করেননি. বরং একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে সামান্তাকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পরম পরামর্শ দিয়েছিলেন.

সামান্তা আক্ষেপ প্রকাশ করে একটি গণমাধ্যমকে বলেন, “তখন তিনি আমাকে খুব সুন্দর করে বলেছিলেন, নামাজটা সবসময় পড়বে. আমি যে মিউজিক করি, সেটি শুনেও তিনি তখন কোনো নেতিবাচক বা বকাঝকা দিয়ে মন্তব্য করেননি. এখন ওয়াজে গিয়ে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের কথা বলছেন, যা তিনি চাইলে তখনই সামনাসামনি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে বুঝিয়ে বলতে পারতেন.”

নাজিয়া আরও স্পষ্ট করেন যে, তাহেরী হুজুরের সাথে যখন তাঁর দেখা হয়েছিল, তখন তিনি আজকের মতো নিয়মিত বোরকা পরতেন না এবং পবিত্র হজও পালন করেননি. সাক্ষাতের সময় তাঁর মাথায় কেবল সাধারণ একটি ওড়না ছিল এবং তাঁর সাথে থাকা এক নারী আত্মীয়ের মাথায় ওড়নাও ছিল না. কিন্তু সে সময় এই আধুনিক পোশাক বা লাইফস্টাইল নিয়েও তাহেরী হুজুর ধর্মীয় কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেননি বলে দাবি করেন তিনি.

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানের এই তীব্র সমালোচনা ও ট্রলিং প্রসঙ্গে সামান্তা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে বলেন, “উনারা ধর্মীয় বক্তা এবং সবাই আমার চেয়ে বয়সে ও সম্মানে বড়. তাঁদের প্রত্যেকের নিজস্ব ধর্মীয় মতামত থাকতেই পারে. তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রলের বিষয় বা সস্তা ট্রল উপাদান না বানিয়ে, যখন দেখা হয়েছিল তখনই ব্যক্তিগতভাবে আমাকে গাইড করতে পারতেন.” তিনি কিছুটা আক্ষেপের সুরে অভিযোগ করেন, এখন তাঁর নাম বা প্রসঙ্গ টেনে ওয়াজে আলোচনা করার মাধ্যমে জনপ্রিয়তার নতুন ‘মার্কেট’ পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র.

তবে এত সব বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যাওয়ার পরও তাহেরী হুজুরের প্রতি নিজের ভেতরের ইতিবাচক মনোভাব ও শ্রদ্ধাবোধের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন নাজিয়া সামান্তা. তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত ক্ষোভের বাইরে তাহেরী হুজুরকে মানুষ হিসেবে আমার বেশ ভালো লাগে. তাঁর ওয়াজ করার স্টাইল এবং কথা শুনতে দারুণ লাগে, তিনি আসলেই একজন অত্যন্ত মজার মানুষ.” সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দুই পক্ষের বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি যুক্তি ঘিরে নেটিজেন ও ভক্তদের মধ্যেও নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং তুমুল আলোচনা অব্যাহত রয়েছে.

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন