সিএমভিতে মুক্তি পেল মুসফিক আর ফারহান ও কেয়া পায়েলের ‘ডুব’
বিনোদন প্রতিবেদক : ছোটপর্দার গ্ল্যামারাস ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী কেয়া পায়েল বর্তমান সময়ে একের পর এক চমৎকার কাজ দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে চলেছেন। মাত্র কিছুদিন আগেই মুক্তি পাওয়া তাঁর ‘ছুঁয়ে দে আমায়’ নাটকটি দর্শকমহলে ব্যাপক প্রশংসা ও আলোচনায় জায়গা করে নেয়। সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক ভালোবাসার গল্প ও সামাজিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপট নিয়ে নতুন নাটকে হাজির হয়েছেন তিনি। নাটকের নাম ‘ডুব’। যেখানে মানুষের আকস্মিক সিদ্ধান্ত, পরিবর্তনশীল অনুভূতি এবং গ্রামীণ সমাজের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দি করা হয়েছে।
আজ রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৩টা ৬ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘তারকা কথন, গ্ল্যামার ও বিনোদন’ এবং ‘টেলিভিশন নাট্যশিল্প, ওটিটি কনটেন্ট, সমকালীন অনস্ক্রিন রসায়ন ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পর্যবেক্ষণ উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে কেয়া পায়েল ও ফারহানের নতুন নাটক ‘ডুব’-এর কাহিনীর মোড় ও নেপথ্য খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
‘ডুব’ নাটকটির চমৎকার কাহিনী ও সংলাপপ্রধান চিত্রনাট্য লিখেছেন নাট্যকার শাহজাহান সৌরভ এবং এটি পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা তৌফিকুল ইসলাম। এই নাটকে কেয়া পায়েলের বিপরীতে প্রধান পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ছোটপর্দার শীর্ষস্থানীয় ও জনপ্রিয় অভিনেতা মুসফিক আর ফারহান (Musfiq R Farhan)। ফারহান ও কেয়া পায়েল জুটি এর আগেও বহু নাটকে একসঙ্গে কাজ করে নিজেদের অনস্ক্রিন রসায়নের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন। এই সফল জুটির অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘এখনো ভালোবাসি’, ‘ভুলো না আমায়’, ‘সে আমার’, ‘আমাদের সুখ দুঃখ’, ‘পরাণ পাখি’, ‘হ্যালো গাইস’, ‘বিয়ের ডাল সাইড ইফেক্ট’, ‘দৌড়ের উপর বিয়ে’, ‘হৃদ মাঝারে’, ‘অনেকদিন পরে’ এবং ‘পাগল তোর জন্য’। স্বভাবতই এই নতুন কাজটি নিয়েও দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
নাটকের গল্পটি আবর্তিত হয়েছে এক শহরকেন্দ্রিক তরুণ ও গ্রামীণ আবহের অদ্ভুত পরিস্থিতিকে ঘিরে। ঢাকা শহরের ব্যস্ত ও সফল তরুণ ব্যবসায়ী সাদ্দাম (মুসফিক আর ফারহান) তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বিয়েতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রামে আসে। সেখানে এসে হঠাৎ করেই শেফালি নামের এক স্থানীয় রূপবতী তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় ও এক ধরণের ভালোলাগা তৈরি হয়। কিন্তু গ্রামের রক্ষণশীল পরিবেশের কারণে শেফালির সঙ্গে একান্তে দুটো কথা বলার সুযোগ পাচ্ছিল না সাদ্দাম। একপর্যায়ে শেফালির সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য সাদ্দাম এক পাগলাটে ও অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নেয়। শেফালি প্রতিদিন যে পুকুরটিতে গোসল করতে যায়, সাদ্দামও সেখানে গিয়ে পানির নিচে ডুব দিয়ে ওত পেতে থাকে।
কিন্তু পানির নিচ থেকে সাদ্দাম যখন মাথা তুলে দাঁড়ায়, ততক্ষণে বাস্তবতার পুরো দৃশ্যপট ওলটপালট হয়ে গেছে। ঘাটে তখন শেফালির বদলে উপস্থিত ছিল ‘আলো’ (কেয়া পায়েল) নামের আরেক তরুণী। ঠিক একই সময়ে মসজিদ থেকে নামাজ শেষে ফেরা কিছু ধর্মপ্রাণ ও স্থানীয় মানুষ তাদের দুজনকে পুকুরঘাটে একসাথে দেখে আপত্তিকর মনে করে বসেন। ব্যস, মুহূর্তের মধ্যেই এই ভুল বোঝাবুঝি রূপ নেয় বিশাল এক গ্রামীণ সামাজিক বিচারে। মাতব্বরদের বিচারে আলো বারবার কাঁদতে কাঁদতে দাবি করতে থাকে যে সে সাদ্দামকে চেনে না এবং সে নির্দোষ। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সাদ্দাম আলোর এই দাবিকে বিন্দুমাত্র সমর্থন না করে নিজেকে অপরাধী হিসেবে মেনে নেয়। কারণ পুকুর থেকে ওঠার পর আলোর চোখের দিকে তাকিয়ে সাদ্দামের ভেতরের অনুভূতি ও ভালোবাসা মুহূর্তেই বদলে যায়; শেফালির চেয়ে আলোকে তার বেশি ভালো লেগে যায়। সাদ্দাম মনে মনে চায় সমাজ যেন এই ঘটনাকে বড় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে এবং শাস্তি স্বরূপ আলোর সাথে তার বিয়ে দিয়ে দেয়!
নাটকটি নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী প্রধান নারী চরিত্রের অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, “ডুব নাটকের গল্পটি আমাদের চেনা প্রেমের গল্পের চেয়ে অনেক আলাদা। এখানে মানবিক অনুভূতি ও সামাজিক চাপের মধ্যকার দ্বন্দ্ব খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা দর্শকদের সম্পূর্ণ নতুন এক নাট্য-অভিজ্ঞতা দেবে।”
পরিচালক তৌফিকুল ইসলামের মতে, ‘ডুব’ কেবল একটি সাধারণ রোমান্টিক গল্প নয়, বরং এটি মানুষের আকস্মিক সিদ্ধান্ত এবং গ্রামীণ সমাজের বিচার ব্যবস্থার এক প্রতিচ্ছবি। নাটকটি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিএমভি (CMV)-এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ইতিমধ্যেই উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং মুক্তির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাটকটি নিয়ে দর্শকমহলে ইতিবাচক মন্তব্য ও আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
জান্নাত সকালবেলা
|