বক্স অফিসে চরম বিপর্যয় হলিউডের বিগ বাজেট সিনেমা ‘সুপারগার্ল’-এর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
বক্স অফিসে চরম বিপর্যয় হলিউডের বিগ বাজেট সিনেমা ‘সুপারগার্ল’-এর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলার এক বিশাল প্রত্যাশা ও হাইপ নিয়ে মুক্তি পেলেও বিশ্বজুড়ে চরম ব্যর্থতার মুখে পড়েছে হলিউডের বিগ-বাজেট ও বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সুপারগার্ল’। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ও ডিসি স্টুডিওসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই সিনেমাটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহে প্রেক্ষাগৃহে কাঙ্ক্ষিত দর্শকদের টানতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ১৭০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল নির্মাণ ব্যয়ের এই ছবিটি এখন বক্স অফিসে রেকর্ড পরিমাণ লোকসানের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা নতুন করে শুরু হওয়া ডিসি ইউনিভার্সের (ডিসিইউ) ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সিনেমা বিশ্লেষকরা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম সপ্তাহে উত্তর আমেরিকার বাজারে মাত্র ৩৭.১ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাপী সব মিলিয়ে মাত্র ৬২.৬ মিলিয়ন ডলার আয় করতে সক্ষম হয়েছে ‘সুপারগার্ল’। এই আয়ের অঙ্কটি স্টুডিওর প্রাথমিক অনুমানের চেয়েও অনেক কম। অথচ সিনেমাটি বানাতে মূল বাজেট ১৭০ মিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি এর বিশ্বব্যাপী প্রচারণা ও বিপণনেই (মার্কেটিং) খরচ হয়েছিল আরও ১২০ মিলিয়ন ডলার। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, প্রেক্ষাগৃহের মালিকদের নির্দিষ্ট লভ্যাংশের ভাগ দেওয়ার পর এই ধরনের বড় ক্যানভাসের সিনেমার মূল খরচ তুলতে অন্তত ৩৭Useful ডলার বা ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় করতে হয়। তবে বর্তমানের হতাশাজনক পরিস্থিতি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আজীবন (লাইফটাইম) আয় বড়জোড় ২০০ থেকে ২১০ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। আর এমনটি হলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রাদার্সকে প্রায় ৮০ থেকে ১২০ মিলিয়ন ডলার (যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি) লোকসান গুনতে হবে।

হলিউডের বিখ্যাত বক্স অফিস বিশ্লেষক জেফ বক এই ব্যর্থতার পেছনে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ‘সুপারগার্ল’ চরিত্রটি সাধারণ বা মূলধারার দর্শকদের কাছে এককভাবে একটি ব্লকবাস্টার সিনেমা হয়ে ওঠার মতো এখনো ততটা জনপ্রিয় নয়। এ ছাড়া বর্তমান গ্রীষ্মকালীন সিনেমার মৌসুমে অন্যান্য বড় ছবির তীব্র প্রতিযোগিতা এবং সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের নেতিবাচক ধারণার কারণে এটি বক্স অফিসে টিকতে পারছে না।

সাধারণত হলিউডের বড় বড় তারকাদের (যেমন জোকার ছবির হোয়াকিন ফিনিক্স) লভ্যাংশের একটা বিশাল অংশ বা ব্যাকএন্ড চুক্তি দিতে হয়। তবে এ ক্ষেত্রে ‘সুপারগার্ল’ চরিত্রে অভিনয় করা নবাগতা অভিনেত্রী মিলি অ্যালকককে মাত্র ৪ লাখ ডলার পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর কোনো ব্যাকএন্ড চুক্তিও ছিল না। ফলে তারকাদের পেছনে বাড়তি বড় কোনো খরচ না হলেও দুর্বল স্ক্রিপ্ট ও ধারণার কারণে ছবির মূল লোকসান এড়ানো যাচ্ছে না।

চলতি ২০২৬ সালে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের জন্য এটি দ্বিতীয় বড় ফ্লপ বা বিপর্যয়। এর আগে তাদের ৯০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের সিনেমা ‘দ্য ব্রাইড!’ বিশ্বব্যাপী মাত্র ২৩ মিলিয়ন ডলার আয় করে বক্স অফিসে পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়েছিল। গত গ্রীষ্মে মুক্তি পাওয়া জেমস গানের ‘সুপারম্যান’ বিশ্বব্যাপী ৬১৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে দারুণ সফল হয়েছিল। সেই রাজকীয় সাফল্যের ওপর ভর করেই ডিসি আগামী ১০ বছরের জন্য তাদের মহাপরিকল্পনা সাজালেও, ‘সুপারগার্ল’-এর এই আকস্মিক ব্যর্থতা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ভবিষ্যৎ পথচলাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল। তবে ডিসি স্টুডিওসের প্রধান পিটার স্যাফ্রান দর্শকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এটি তাদের একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ এবং সাময়িক এই ব্যর্থতা সত্ত্বেও ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল ১০ বছরের পরিকল্পনার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

মন্তব্য করুন