২২ বছরের অপেক্ষা ফুরালো হিউস্টনে, পিছিয়ে পড়েও নকআউট জয় ব্রাজিলের
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমার্ধে চেনা ব্রাজিলকে যেন খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাতেউস কুনিয়াহদের একের পর এক অগোছালো আর ধারহীন আক্রমণ গ্যালারিতে কেবলই হতাশার জন্ম দিচ্ছিল। উল্টো জাপানের জমাট রক্ষণ ভাঙতে গিয়ে উল্টো গোল হজম করে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল সেলেসাওরা। তবে বিরতির পর যেন খোলস ছেড়ে বেরোল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের চরম ভোগান্তি ভুলে দ্বিতীয়ার্ধে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে এক মহানাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতার এমন কীর্তি ব্রাজিল সবশেষ দেখিয়েছিল ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে, শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চের নকআউটে সেই একই রোমাঞ্চকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাল সেলেসাওরা।
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে সোমবার রাতের এই ম্যাচে শুরু থেকেই বলের দখল কিংবা অন টার্গেট শটে ব্রাজিল কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও, মাঠের ফুটবলে আসল দাপট দেখিয়েছে জাপানই। দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসে খেলে ম্যাচের ২৯তম মিনিটেই কাইশু সানোর চমৎকার এক গোলে লিড নেয় এশিয়ান পরাশক্তিরা। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রাজিলকে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস বদলে চেনা ছন্দে ফেরার স্পষ্ট আভাস দেয় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। বিরতি থেকে ফিরেই আক্রমণের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় তারা। কয়েক মিনিটের ঝড়ে দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করার পর, অবশেষে ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে আসে ব্রাজিলের সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। জাপানি ডিফেন্সের দেয়ালে ফাটল ধরিয়ে গোল করে ব্রাজিলের মুখে হাসি ফোটান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচ জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে জাপানের ডিবক্সে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে হলুদ শিবির। কিন্তু জাপানের লড়াকু রক্ষণভাগের বুহূ কিছুতেই ভেদ করা যাচ্ছিল না। ম্যাচ যখন নিশ্চিত অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের (ইঞ্জুরি টাইম) শেষ মুহূর্তে ম্যাজিক দেখান বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফরোয়ার্ড গাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। তার নাটকীয় ও চোখধাঁধানো গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল, আর সেই সাথেই নিশ্চিত হয় সেলেসাওদের শেষ ১৬-র টিকিট।
|