রাজনগরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ণ
রাজনগরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘী হাওরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম বাদ দিয়ে আবাদ না করা পছন্দের ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার এই অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে এই অনিয়মের সুষ্ঠু প্রতিকার ও পুনঃতদন্তের দাবিতে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ ও স্মারকলিপি দায়ের করেছেন পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী কৃষকরা।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘী হাওর সংলগ্ন এলাকার কৃষকরা মূলত এক ফসলি বোরো ধান উৎপাদন করেই তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু চলতি বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওরের পানি আকস্মিক বৃদ্ধি পেয়ে পাকা ও আধপাকা ধান তলিয়ে যায়। এতে অনেক কৃষক তাদের কষ্টার্জিত ধান কাটতে পারেননি এবং মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

দুর্যোগের পর সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জরুরি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা যোগসাজশ করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম তালিকাভুক্ত না করে নিজেদের পছন্দের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম লিপিবদ্ধ করেছেন, যারা আদৌ বোরো আবাদ করেননি। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে এই বিতর্কিত তালিকাটি পুনরায় মাঠ পর্যায়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করা হোক। যারা বোরো ধান আবাদ করেননি কিংবা যাদের ধান বন্যায় নষ্ট হয়নি, অথচ তালিকায় নাম রয়েছে, তাদের নাম কেটে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে সরকারের দেওয়া অনুদান বিতরণ করার জোর দাবি জানান তাঁরা।

কাউয়াদিঘী হাওরের ভুক্তভোগী কৃষক শাহিন মিয়া, ফখরুল মিয়া, মিতুল মিয়া ও সুহেল মিয়া একটি গণমাধ্যমকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বন্যায় আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। অথচ যাদের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়নি, তাদের নাম সরকারি অনুদানের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাই সরকারি এই সহায়তা পান।"

এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সরকার একটি গণমাধ্যমকে জানান, কৃষকদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারিভাবে যে পরিমাণ বরাদ্দ এসেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় সব কৃষককে তালিকার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

মন্তব্য করুন