দুর্গাপুরে জমি নিয়ে বিরোধে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের হাত ভেঙে দিল প্রতিপক্ষ
মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের এই হামলায় ওই প্রাক্তন সেনাসদস্যের একটি হাত ভেঙে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।
আহত সেনাসদস্যের নাম মো. আহাদ আলী। তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ৪ নম্বর দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়নের যুগিশো (উত্তরপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করে বর্তমানে নিজ এলাকায় একটি কীটনাশকের দোকান পরিচালনা করছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নিজের মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে অন্য একজনকে চলাচলের জন্য রাস্তা করে দিতে শ্রমিক নিয়ে কাজ শুরু করেন আহাদ আলী। এ সময় তাঁর চাচাতো ভাইয়ের ছেলে ও প্রধান অভিযুক্ত পাখি এসে কাজে বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পরিবারের অন্য সদস্যরা বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা করে দেন।
এরই জেরে পরদিন দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কয়েকজন মিলে রাস্তায় ওত পেতে থেকে তাঁর পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাঠিসোঁটা দিয়ে আহাদ আলীর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এতে তাঁর একটি হাত ভেঙে যায় এবং পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহাদ আলী একটি গণমাধ্যমকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হামলার সময় আমি বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছিলাম, অনেকেই এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা থাকায় ভয়ে কেউ আমাকে রক্ষা করতে পারেনি। মারতে মারতে আমি অজ্ঞান হয়ে গেলে তারা আমাকে মৃত ভেবে ফেলে পালিয়ে যায়।”
কারা এই হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, হামলাকারীদের সবাইকে তিনি স্পষ্ট চিনতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর চাচাতো ভাইয়ের ছেলে পাখি, পাখির স্ত্রী জেসমিন, শ্বশুর ইয়াদ আলী, শাশুড়ি তহমিনা ও শ্যালক সোহাগ।
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন দেশের জন্য সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছি, একাধিকবার জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও অংশ নিয়েছি। অবসরের পর নিজ এলাকায় শান্তিতে থাকার কথা ছিল, অথচ এখন নিজের জমি নিয়ে হামলার শিকার হলাম। জমির সব বৈধ কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। তারপরও যদি এমন হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”
এদিকে, এই বর্বরোচিত ঘটনার পর জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
এই বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, “রাতেই আমরা ঘটনাটির প্রাথমিক লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে মূল বাদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় থানায় উপস্থিত হতে পারেননি, যার কারণে মামলাটি রুজু হতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। দ্রুতই মামলা দায়ের সম্পন্ন হবে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
|