জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুক্ত সাংবাদিক অভি, রিপোর্টার্স ক্লাবের নিন্দা
আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর: গ্লোবাল টেলিভিশনের যশোর জেলা প্রতিনিধি ওবায়দুল ইসলাম অভিকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডিবি পুলিশের একটি দল তাঁকে আটক করে যশোর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করে। পরে থানায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি যশোরের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় যশোর প্রেসক্লাব এবং সংবাদপত্র পরিষদসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে ওবায়দুল ইসলাম অভিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "নকল ও ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সাইবার অপরাধের তদন্তের স্বার্থে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সাংবাদিক ওবায়দুল ইসলাম অভিকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
এর আগে ওবায়দুল ইসলাম অভির বিরুদ্ধে গ্লোবাল টেলিভিশনের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি সংবাদ প্রচারের সময় গুরুতর ভুলের অভিযোগ উঠেছিল। একটি হত্যা হুমকির অডিওর সাথে মূল আসামির পরিবর্তে যশোরের একজন বিশিষ্ট ও নামকরা ব্যবসায়ীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যা নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সাংবাদিক অভি নিজের ভুল স্বীকার করে গ্লোবাল টেলিভিশনের পেজ থেকে সেই বিতর্কিত ভিডিওটি সরিয়ে নেন।
এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী একজন সাংবাদিককে এভাবে হুট করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাব।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগ উঠলে তা দেশের প্রচলিত আইনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও আইনগতভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। তবে তদন্তের নামে কোনো সাংবাদিক যেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানান তাঁরা।
এআইএল/সকালবেলা
|