টেকনাফে দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে হোমিও চিকিৎসককে অপহরণ

প্রকাশ: বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ণ
টেকনাফে দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে হোমিও চিকিৎসককে অপহরণ
কামাল উদ্দিন

ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফে প্রকাশ্য দিবালোকে বসতবাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে কামাল উদ্দিন (৬৫) নামে এক প্রবীণ হোমিও ও পল্লী চিকিৎসককে তুলে নিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার (২৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াখালীয়া জুম্মাপাড়া এলাকায় এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

অপহৃত কামাল উদ্দিন স্থানীয়ভাবে ‘বিএ কামাল’ নামে অত্যন্ত পরিচিত। তিনি ওই এলাকার মৃত মকবুল আহমদের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে হোমিও ও পল্লী চিকিৎসক হিসেবে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন।

অপহৃতের ছোট ছেলে সৌদি আরবপ্রবাসী মো. ইমতিয়াজ একটি গণমাধ্যমকে জানান, "রবিবার দুপুরে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সুসংগঠিত সশস্ত্র দল হঠাৎ আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ত্রের মুখে আমার বৃদ্ধ বাবাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আমার মা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করা হয়। এরপর অপহরণকারীরা চোখের পলকে বাবাকে নিয়ে চলে যায়।" তিনি আরও জানান, তাঁরা তিন ভাই-ই সৌদি আরবে কর্মরত। তিনি তিন মাস আগে ছুটিতে দেশে এসেছেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও বর্বরোচিত ঘটনার পর পুরো পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তিনি দ্রুত তাঁর বাবাকে উদ্ধার করে অক্ষত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জুম্মাপাড়া এলাকার পাশের গহীন পাহাড় থেকে নেমে আসা একদল চিহ্নিত সশস্ত্র অপরাধী প্রকাশ্যে ওই চিকিৎসককে তুলে নিয়ে পুনরায় পাহাড়ের দিকে চলে যায়। এ সময় কয়েকজন সাহসী স্থানীয় ব্যক্তি তাঁদের ধাওয়া বা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অপহরণকারীরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। দিনের আলোয় এমন প্রকাশ্য অপহরণ ও গুলির ঘটনায় পুরো এলাকায় এক ভীতিকর ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (ইউপি মেম্বার) মো. ইলিয়াস একটি গণমাধ্যমকে বলেন, "অপহৃত চিকিৎসকের বাড়িটি পাহাড়ের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। এলাকায় তিনি একজন সজ্জন ও নিরীহ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর তিন ছেলে বিদেশে থাকায় মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের অসৎ উদ্দেশ্যে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা তাঁকে অপহরণ করে থাকতে পারে বলে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে এমন ঘটনার পর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।"

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ একটি গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপহৃত ব্যক্তিকে দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও প্রযুক্তিগত সহায়তা সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ভিকটিমকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।"

মন্তব্য করুন