রামমন্দিরে চুরিতে মুসলিম থাকলে এনকাউন্টার হতো: ওয়েইসি

প্রকাশ: বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ণ
রামমন্দিরে চুরিতে মুসলিম থাকলে এনকাউন্টার হতো: ওয়েইসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের অযোধ্যার রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এই চুরির ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন হায়দ্রাবাদের সংসদ সদস্য ও অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।

গত সোমবার পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের বিজনোরে এক রাজনৈতিক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ওয়েইসি অভিযোগ করেন, এই মেগা চুরির ঘটনায় যদি কোনো মুসলিম জড়িত থাকতেন, তবে এতদিনে তাঁকে ‘এনকাউন্টার’ করা হতো এবং তাঁর বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হতো। যোগী সরকার আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তীব্র বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বলেও তিনি দাবি করেন।

আসাদউদ্দিন ওয়েইসি বলেন, "রামমন্দির ট্রাস্টে বা এই চুরির চক্রে যদি কোনো একজন মুসলিম সদস্যের নাম থাকত, তবে এতদিনে তাঁকে এনকাউন্টার করে এবং তাঁর বাড়ি মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে মামলাটি চিরতরে শেষ করে দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান অভিযুক্তরা হিন্দু হওয়ায় তাঁরা এখনো নির্বিঘ্নে আছেন।" একই সাথে তিনি পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার ঢিলেমি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, অভিযুক্তদের রিমান্ডে নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রেও প্রশাসনের কোনো বিশেষ তৎপরতা চোখে পড়ছে না।

রামমন্দিরের অনুদান তছরুপের এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি প্রথম সামনে এনে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার ঝড় তোলেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সভাপতি অখিলেশ যাদব। বিরোধীদের তীব্র চাপের মুখে উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্ত দল (সিট) গঠন করতে বাধ্য হয়।

এই কেলেঙ্কারির জেরে ইতিমধ্যেই রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্ট সদস্য অনিল মিশ্র নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। গত ২৫ জুন দায়ের হওয়া একটি সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে টাকা গণনাকারী দলের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, মন্দিরের ফান্ড থেকে প্রায় ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ কোটি রুপি আত্মসাৎ করা হয়েছে, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেছেন, জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে এবং দোষী ব্যক্তিদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তথ্যসূত্র: নিউজ ১৮

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন