বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ইকুয়েডরের কোচের পদত্যাগ
স্পোর্টস ডেস্ক: চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২ (রাউন্ড অব ৩২) থেকে বিদায় নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধাক্কা খেল ইকুয়েডর ফুটবল। টুর্নামেন্ট থেকে দল ছিটকে যাওয়ার পরই ইকুয়েডর জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে।
গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর মুখোমুখি হয়েছিল ইকুয়েডর। হাইভোল্টেজ সেই ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় লাতিন আমেরিকার দেশটি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান ৪৫ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড।
ম্যাচ পরবর্তী আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে বলেন, “ইকুয়েডর ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আমাদের চুক্তি ছিল এই বিশ্বকাপ পর্যন্তই। আমরা দল ও দেশের মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম— ইকুয়েডরের ফুটবল ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ উপহার দেওয়ার— শেষ পর্যন্ত আমরা তা পূরণ করতে পারিনি। যেহেতু আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছি, তাই এটাই বিদায় বলার উপযুক্ত সময়।”
বিদায়ের ঘোষণা দিতে গিয়ে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই আর্জেন্টাইন কোচ। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া অভূতপূর্ব সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এই প্রতিশ্রুতিশীল দলটির সঙ্গে আরও দীর্ঘ সময় কাজ করার প্রবল ইচ্ছা ছিল তার। তবে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে শেষ ষোলোর টিকিট কাটতে না পারায় নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে পদত্যাগ করাকেই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেছেন তিনি।
মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটির ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে বেকাসেসে বলেন, স্বাগতিক মেক্সিকান সমর্থকদের গগনবিদারী চিৎকার ও প্রবল উৎসাহে ম্যাচের শুরু থেকেই এক ধরনের মানসিক চাপে পড়ে গিয়েছিল তার দল। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের গতি ও চতুর আক্রমণের সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মেলাতে পারেনি ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ। দ্বিতীয় অর্ধে কৌশল বদলে ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “প্রথমার্ধে আমরা ফুটবলের সব বিভাগেই পুরোপুরি পিছিয়ে ছিলাম। পরে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ম্যাচে ফেরার জন্য যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোলটি দরকার ছিল, সেটি আমরা আর করতে পারিনি।”
তবে বিশ্বকাপ থেকে দল ছিটকে গেলেও ইকুয়েডরে কাটানো নিজের সময়টাকে পুরোপুরি ব্যর্থ বা কালো অধ্যায় হিসেবে মানতে নারাজ এই কোচ। তার মতে, ইকুয়েডরের একঝাঁক তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও প্রতিশ্রুতিশীল দল গড়ে তোলাই ছিল এই সফরে তার সবচেয়ে বড় ও অন্যতম অর্জন।
ভবিষ্যত ইকুয়েডর দল নিয়ে বেকাসেসে বলেন, “এই দলের প্রকৃত উত্তরাধিকার তরুণ খেলোয়াড়দের হাতে। ইকুয়েডরের ফুটবল ইতিহাসে এটিই ছিল অন্যতম সবচেয়ে তরুণ ও প্রতিভাবান দলগুলোর একটি। দল নিয়ে আজ আমার কোনো অভিযোগ নেই, আছে শুধু এক বুক কৃতজ্ঞতা। খেলোয়াড় ও সমর্থকদের কাছ থেকে যে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সম্মান আমি পেয়েছি, তা আমার আজীবন মনে থাকবে।”
|