সরকারি রাস্তা কেটে জমিতে রূপান্তরের অভিযোগ
তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীতে রাতের আঁধারে একটি সরকারি মাটির রাস্তা কেটে ফসলি জমিতে রূপান্তর করার অভিযোগ উঠেছে মো. বাবুল দফাদার নামের এক স্থানীয় প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং রাস্তাটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবিতে আজ বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মৌরভী এলাকায় মানববন্ধন করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত বাবুল দফাদার ওই এলাকার মৃত তৈয়বুর রহমান দফাদারের ছেলে। এর আগে ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ফল পাননি বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মোয়াপাড়া-মৌরভী সড়কটি দিয়ে গত দুই যুগ ধরে মৌরভী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সোবাহানপাড়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় মসজিদের মুসল্লি ও হাজারো সাধারণ মানুষ যাতায়াত করছেন। রাস্তাটির জনগুরুত্ব বিবেচনা করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় এটি নতুন করে সংস্কার করা হয়েছিল।
অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক দিন ধরে বাবুল দফাদারের নেতৃত্বে একদল লোক রাতের আঁধারে সরকারি রাস্তাটির প্রায় ৪০০ ফুট অংশ কোদাল দিয়ে কেটে নিজেদের ফসলি জমির সাথে মিশিয়ে দেন। এতে দুটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়রা বেগম, আসমা বেগম ও মাওলানা এমাদুল হক বলেন, "রাস্তাটি কেটে ফেলায় আমাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এখন আর স্কুল-মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। যাতায়াত ব্যবস্থা ধ্বংস করায় তাদের পড়াশোনা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। আমরা দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার এবং অপরাধীর শাস্তি চাই।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাবুল দফাদারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু মিয়া বলেন, "ওই রাস্তাটি সরকারি বরাদ্দে করা হয়েছিল। রাস্তা কাটার বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, "এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং ইউপি চেয়ারম্যানকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সরকারি রাস্তা কাটার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে বাদী হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
এআইএল/সকালবেলা
|