গাজীপুরে ইসলাম গার্মেন্টস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ
গাজীপুর প্রতিনিধি: শ্রমিক অসন্তোষ ও টানা ধর্মঘটের জেরে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অবস্থিত ‘ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (ইউনিট-২)’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
আজ বুধবার (১ জুলাই) সকালে কারখানার মূল ফটকে এই সংক্রান্ত নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে কারখানাটির দুই হাজারেরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ জুন সকাল থেকে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে বেআইনিভাবে ধর্মঘট শুরু করে উৎপাদন কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় তাদের কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও গতকাল ৩০ জুন পর্যন্ত শ্রমিকরা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। এমতাবস্থায় কারখানার সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাধ্য হয়ে আজ ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩ (১) ধারা মোতাবেক ইসলাম গার্মেন্টস (ইউনিট-২) অনির্দিষ্টকালের জন্য লে-অফ বা বন্ধ ঘোষণা করা হলো।
পুলিশ, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৭ জুন কারখানার রুবিনা বেগম (৫০) নামের এক নারী শ্রমিক কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে কারখানার নিজস্ব মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কোনাবাড়ী ক্লিনিকে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পরদিন ২৮ জুন সকালে কারখানায় রুবিনা বেগমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের দাবি, কারখানা কর্তৃপক্ষের সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না দেওয়া ও অবহেলার কারণেই রুবিনার অকাল মৃত্যু হয়েছে। এই অভিযোগ এনে তাঁরা কারখানায় কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন, যা গত কয়েক দিন ধরে কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষ তৈরি করে।
মৃত রুবিনা বেগম সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর থানার মেঘাই গ্রামের মৃত সুমার আলী সরকারের মেয়ে। তিনি গাজীপুরের জরুন এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ইসলাম গার্মেন্টসে ‘সুইং অপারেটর’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এআইএল/সকালবেলা
|