ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য ৬০০ কেজি আম উপহার পাঠাল বাংলাদেশ

প্রকাশ: বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:১৬ অপরাহ্ণ
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য ৬০০ কেজি আম উপহার পাঠাল বাংলাদেশ
আখাউড়া স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য পাঠানো আমের চালান হস্তান্তর (ফাইল ছবি)

সামজাদ জসি, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও প্রাণবন্ত করতে এক অনন্য ও প্রীতিময় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার জন্য বিশেষ শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ৬০০ কেজি রসালো ও সুস্বাদু আম পাঠিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আমের চালান ভারতে পাঠানো হয়। উপহারের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের অত্যন্ত সুপরিচিত, সুগন্ধযুক্ত ও জনপ্রিয় জাতের ‘আম্রপালি’ এবং রংপুরের বিখ্যাত ‘হাঁড়িভাঙ্গা’ আম।

সকালে আখাউড়া স্থলবন্দরের শূন্য রেখায় (জিরো পয়েন্ট) দুই দেশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাজকীয় উপহার হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য পাঠানো এই প্রীতি উপহারটি ওপারে গ্রহণ করেন আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধি এবং ভারতীয় কাস্টমস ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও বন্দর কর্মকর্তারা একটি গণমাধ্যমকে জানান, প্রতি বছরই আমের মৌসুমে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে আম পাঠানো একটি নিয়মিত রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এটি মূলত দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, প্রীতি ও পারস্পরিক কূটনৈতিক সুসম্পর্কেরই এক মধুর বহিঃপ্রকাশ।

হস্তান্তরের সময় উপস্থিত একজন উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক প্রতিনিধি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, "ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও আবেগঘন নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে নানা সংকটে ত্রিপুরা আমাদের পাশে থেকেছে। এই ধরনের উপহার ও শুভেচ্ছা বিনিময় দুই দেশের মানুষের মধ্যকার মৈত্রী ও সৌহার্দ্যের বন্ধনকে ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে আরও বেশি শক্তিশালী ও জোরদার করবে।"

জানা গেছে, উপহার হিসেবে পাঠানো আমগুলোর গুণগত মান, আকার ও অনন্য স্বাদের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ তাজা, রাসায়নিকমুক্ত এবং আকর্ষণীয় মোড়কে সুসজ্জিত করে এই আমগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আম হস্তান্তরের এই মহতী মুহূর্তে আখাউড়া স্থলবন্দরের কাস্টমস, শুল্ক স্টেশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের সুসম্পর্কের কথা বিবেচনা করে উপহারের এই বিশেষ চালানটি কোনো রকম শুল্ক জটিলতা বা আনুষ্ঠানিক বিলম্ব ছাড়াই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ওপারে পাঠানোর জন্য বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য করুন