রামপালে চিপস খেয়ে ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ

প্রকাশ: বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ণ
রামপালে চিপস খেয়ে ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ
রামপালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা

মাসুম বিল্লাহ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি: বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন চিপস খেয়ে ১২ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একজন অভিভাবক গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর অভিযুক্ত দোকানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার বড়দূর্গাপুর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের ওই দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসি।

অভিযানকালে ওই দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ চিপস এবং ডিটারজেন্টের মোড়ক সদৃশ প্যাকেটে ভরা অনুমোদনহীন চিপস বিক্রির হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর তীব্র দাবির মুখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোকানটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর আগে, গত সোমবার (২৯ জুন) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বড়দূর্গাপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের ওই দোকান থেকে চিপস কিনে খায় শিক্ষার্থীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চিপসগুলো দেখতে হুবহু ডিটারজেন্টের প্যাকেটের মতো মোড়কে মোড়ানো ছিল। বিষাক্ত এই চিপস খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাদ্যে বিষক্রিয়ার (ফুড পয়জনিং) তীব্র উপসর্গ দেখা দেয়।

আক্রান্তদের পেটে তীব্র ব্যথা, অনবরত বমি ও শারীরিক অস্বস্তি শুরু হলে অভিভাবক এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. শাহীনুর রহমান পলাশ ও রাজনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম হাসান তিতাসের সহায়তায় তাদের দ্রুত রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রস্থ মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থদের মধ্যে রয়েছে—প্রাপ্তি অধিকারী (১০), তুফান শেখ (১৩), রাজদীপ (১০), আখিরা (১১), লামিয়া (১১), জান্নাতুল (১০), আরহী মন্ডল (৫), রাহুল মন্ডল (৮), সৃষ্টি বিশ্বাস (১০), ফাতেমা আক্তার (৮), আমবিকা (৬), প্রোভাতী (১০) এবং দীপিকা হালদার (অভিভাবক, ২৮)। তাদের মধ্যে শিক্ষার্থী জান্নাতুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে রামপাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন মৈত্রী হাসপাতালে ছুটে যান এবং চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে অভিভাবকদের সান্ত্বনা দেন। এদিকে, ঘটনার পরপরই পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে আক্রান্ত শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

মৈত্রী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাকিব রেজোয়ান একটি গণমাধ্যমকে জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে মোট ১৩ জন হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে ১২ জনকে মৈত্রী হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না ফেরদৌসি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে যেকোনো ধরণের অবহেলা বা জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে ভেজাল ও অনুমোদনহীন খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন