পদ্মা সেতুতে ৪ বছরে টোল ৩৪২৯ কোটি, ঋণ পরিশোধ ২৫১৬ কোটি
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা ও নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত মেগা প্রকল্প ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু’ উদ্বোধনের চার বছর পূর্তির আগেই অনন্য এক অর্থনৈতিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত চার বছরে পদ্মা সেতু থেকে সর্বমোট ৩ হাজার ৪২৯ কোটি টাকারও বেশি টোল আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে এই অর্জিত টোলের টাকা থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে নেওয়া নির্মাণ ঋণের মোট ১৬টি কিস্তি বাবদ ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা সফলভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। ঋণের কিস্তির পাশাপাশি এই সময়ে ৪৩৬ কোটি টাকারও বেশি ভ্যাট (VAT) সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো কিস্তিই বকেয়া নেই।
গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফলতার খতিয়ান নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা বিশাল ব্যয়ে নির্মিত এই স্বপ্নের পদ্মা সেতু ২০২২ সালের ২৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছিল। এরপরের দিন অর্থাৎ ২৬ জুন থেকে সেতুটি সর্বসাধারণের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত বিগত চার বছরে এই সেতু দিয়ে মোট ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি ছোট-বড় যানবাহন পারাপার হয়েছে। আর এই বিপুল সংখ্যক যানবাহন থেকে টোল হিসেবে সর্বমোট ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে।
এই অভাবনীয় সাফল্য প্রসঙ্গে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, "পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবহেলিত ২১টি জেলার প্রত্যক্ষ যোগাযোগব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব এক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। একই সঙ্গে অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, আমরা সেতুর আন্তর্জাতিক মানের রক্ষণাবেক্ষণ, সফল পরিচালনা এবং সরকারের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি সম্পূর্ণ নিজস্ব আয় থেকে নিয়মিত ও দক্ষতার সাথে পরিশোধ করে যাচ্ছি।"
তিনি আরও তথ্য দিয়ে জানান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের অর্থ বিভাগের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী, ১ শতাংশ সুদে ৩৫ বছর মেয়াদে মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা (সুদ-আসলে) সরকারকে পরিশোধ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষের। প্রতি অর্থবছরে চার কিস্তি করে মোট ১৪০টি কিস্তির মাধ্যমে আগামী ৩৫ বছরে এই বিশাল অর্থ ক্রমান্বয়ে পরিশোধ করা হবে। সময়মতো কিস্তি দেওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো বকেয়া পড়েনি।
সেতু কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) টোল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিনির্ভর কাজ চলছে। একই সঙ্গে ‘ইউনিফায়েড ন্যাশনাল ইটিসি ফ্রেমওয়ার্ক’ (UNEF) বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক সড়ক যোগাযোগ ও টোল ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুতগতির এবং পুরোপুরি ডিজিটাল করার নানামুখী উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচালিত বিশদ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টের অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণের কাজই পরবর্তী সময়ে পদ্মা সেতুর চূড়ান্ত নকশা প্রণয়ন ও সফল নির্মাণপ্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। উদ্বোধনের পর থেকে এই সেতুটি দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও বড় অবদান রাখছে।
|