জেল এড়াতে কফিন কিনে মৃত্যুর নাটক, অবশেষে পুলিশের জালে চীনা ব্যক্তি

প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ণ
জেল এড়াতে কফিন কিনে মৃত্যুর নাটক, অবশেষে পুলিশের জালে চীনা ব্যক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে হতে পারতো সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড। সেই জেল খাটার ভয় এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের হাত থেকে বাঁচতে নিজের মৃত্যুর অভাবনীয় ও অবিশ্বাস্য এক ভুয়া নাটক সাজিয়েছিলেন মধ্য চীনের এক অধিবাসী। তবে কফিন কিনে ও স্বজনদের সহায়তায় শত শত কিলোমিটার দূরে পালিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হলো না তাঁর; কয়েক মাসের নিখুঁত তদন্তের পর জীবিত অবস্থাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

সম্প্রতি চীনের হেনান প্রদেশের আনইয়াং এলাকার স্থানীয় প্রসিকিউটররা ঘটনার বিস্তারিত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়।

প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ‘সি’ পদবিতে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে গত বছরের জানুয়ারিতে মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে পুলিশ আটক করে। এর আগেও তিনি দুইবার লাইসেন্স ছাড়া এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। পূর্বের অপরাধের রেকর্ড ও বড় অংকের ঋণের বোঝা থাকার কারণে সাজা এড়াতে গত বছরের জুনে আত্মগোপনের পরিকল্পনা করেন তিনি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি আগে থেকেই একটি দাফনের কফিন কিনে রাখেন। এরপর ঘরের চারপাশে খালি ওষুধের বোতল ছড়িয়ে দিয়ে এমন এক পরিবেশ তৈরি করেন, যেন মনে হয় তিনি অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন। এরপর তিনি শ্বাস-প্রশ্বাস আটকে সম্পূর্ণ নিশ্চল হয়ে শুয়ে থাকেন এবং নিজের শরীর ঠান্ডা দেখানোর জন্য বিশেষ কুলিং যন্ত্রও ব্যবহার করেন।

পরবর্তীতে তাঁর মা ও দাদি দাবি করেন, অতিরিক্ত ওষুধ সেবনেই সির মৃত্যু হয়েছে। চেহারা নষ্ট হয়ে গেছে দাবি করে কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রেখে পুলিশ বা প্রতিবেশীদের দেখার সুযোগ না দিয়েই দ্রুত কফিনটি দাফন করা হয়। এদিকে ‘সি’ রাতের আঁধারে গোপনে শত শত কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান প্রদেশে পালিয়ে গিয়ে নতুন নামে কাজ শুরু করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছালেও ততক্ষণে কফিন দাফন সম্পন্ন হয়ে যায়। তবে একাধিক বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয় পুলিশের:

  • পরিবার জরুরি কোনো চিকিৎসাসেবা বা অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্য চায়নি।

  • মৃত্যুর কোনো অফিশিয়াল সরকারি সনদ বা হাসপাতালের নথি দেওয়া হয়নি।

  • পারিবারিক নিবন্ধন থেকে নাম বাদ দেওয়ার বা দাহ করার কোনো প্রমাণ মেলেনি।

  • মা ও দাদি ছাড়া অন্য কেউই তাঁর মরদেহ দেখেনি।

পরবর্তীতে স্থানীয় পুলিশ সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ, ব্যাংক লেনদেনের ডেটা এবং মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে ‘সি’ আসলে জীবিত আছেন। দীর্ঘ অভিযানের পর গত এপ্রিল মাসে ইউনান প্রদেশ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চলতি বছরের মে মাসে আদালত বিচক্ষণ তদন্তের পর ওই ব্যক্তিকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানার আদেশ দেন। অন্যদিকে, অপরাধীকে লুকিয়ে রাখা এবং পালাতে সহায়তা করার অপরাধে গত ১১ জুন ‘সি’-র মা ও দাদির বিরুদ্ধেও পৃথক ফৌজদারি মামলা ও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

মন্তব্য করুন