জর্ডানে ইরানি হামলায় নিখোঁজ মার্কিন সেনার মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮

প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
জর্ডানে ইরানি হামলায় নিখোঁজ মার্কিন সেনার মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮

অনলাইন ডেস্ক: জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিখোঁজ থাকা মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক সংঘর্ষে মোট নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে গিয়ে পৌঁছেছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়া ও পরবর্তীতে নিহত বলে নিশ্চিত হওয়া ওই সেনাসদস্যের নাম সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র‍্যাম্পারস্যাড (২৮)। তিনি নিউইয়র্কের বাসিন্দা এবং জার্মানির আনসবাখে অবস্থিত ‘দশম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ড’-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পেন্টাগনের সামরিক রেকর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মৃত বলে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

একই হামলায় প্রাণ হারানো অপর দুই সেনার পরিচয় আগেই প্রকাশ করেছিল মার্কিন সেনাবাহিনী। তারা হলেন— হাওয়াইয়ের ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য মতে, ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী আন্তর্জাতিক অভিযানে সহায়তা করতে তাদের জর্ডানে মোতায়েন করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, গত রবিবার ইরাকের ইরবিল বিমানঘাঁটিতে একটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করতে গিয়ে নিহত হন নর্থ ক্যারোলাইনার ৩০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ সেনা সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন। দীর্ঘ ৯ বছর সেনাবাহিনীতে সেবা দেওয়া সুইন্টনকে মরণোত্তর ‘ব্রোঞ্জ স্টার’ ও ‘পার্পল হার্ট’ সম্মাননা ও স্টাফ সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের সরাসরি হামলায় এই প্রথম ধারাবাহিকভাবে মার্কিন সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে ইরান ও এর সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সারা বিশ্বে নিজেদের নাগরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের সাথে এই সরাসরি সামরিক দ্বন্দ্ব কেবল মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতিই বাড়াচ্ছে না, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি, বাণিজ্যিক নৌপথ এবং বৈশ্বিক তেলের বাজারকেও এক বিশাল অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মন্তব্য করুন