সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে মিসর
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংকট ও লোহিত সাগরজুড়ে রক্তক্ষয়ী উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে (Mekkah Joint Defense Pact) চতুর্থ দেশ হিসেবে উত্তর আফ্রিকার শক্তিশালী রাষ্ট্র মিসর যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
রোববার (৯ আগস্ট) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা 'আনাদোলু'-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান এই সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে আনেন।
সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থা, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বড় বাধা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সামরিক জোট গঠন ও চুক্তি সই করে।
চুক্তির মূল ধারায় উল্লেখ রয়েছে, জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর আগ্রাসন বা সশস্ত্র হামলাকে সকল সদস্য দেশের ওপর যৌথ আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সামরিকভাবে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
এমন প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মিসরকে ‘সব বিষয়ে স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে হাকান ফিদান বলেন, "আমি জোরালোভাবে বিশ্বাস করি, পরবর্তী ধাপে মিসরও আমাদের এই ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা জোটের অংশ হয়ে উঠবে। বর্তমানে আমরা দেশটির সাথে এমন নিখুঁত সমন্বয়ে কাজ করছি যেন তারা অলরেডি এই জোটের সদস্য।"
তিনি আরও জানান, কেবল অল্প কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক বিষয় চূড়ান্ত হওয়া বাকি। সেগুলো সমাধান হয়ে গেলেই মিসরের এই সামরিক বলয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত না হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, "এই প্রতিরক্ষা চুক্তি নির্দিষ্ট কোনো একক দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি কিংবা লিখিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের দূরদর্শী ভাবনা অনুযায়ী— আমাদের কেবল ৩-৪টি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনতে প্রয়োজনে সমমনা সকল দেশকে এই নিরাপত্তা ছাতার নিচে নিয়ে আসা হবে।"
|