জাপানে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে ৮ জনের মৃত্যু, চিবায় লেভেল ৫ সতর্কতা

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৩ অপরাহ্ণ
জাপানে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে ৮ জনের মৃত্যু, চিবায় লেভেল ৫ সতর্কতা
ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় চিবা প্রিফেকচারের সড়ক তলিয়ে গিয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

জাপানের পূর্বাঞ্চলে ও রাজধানী টোকিওর নিকটবর্তী চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া অবিরত বর্ষণে এ পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষ।

পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় চিবা প্রিফেকচারের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এলাকায় দুর্যোগ সংক্রান্ত সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘লেভেল ৫’ জারি করেছে জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (JMA)। গত মে মাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কিত তথ্যসেবার সংস্কারের পর দেশটিতে এটিই প্রথম লেভেল ৫ সতর্কতা জারির ঘটনা।

রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি ও প্রাণহানি:

আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উত্তপ্ত ও আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে আসায় বায়ুমণ্ডল চরম অস্থিতিশীল হয়ে এই অস্বাভাবিক বর্ষণ ঘটিয়েছে। চিবার চুও ওয়ার্ডে মাত্র এক ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার এবং সাকুরায় তিন ঘণ্টায় ১৮৯.৫ মিলিমিটার পর্যন্ত ঐতিহাসিক রেকর্ড বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বন্যার পানির স্রোতে ও গাড়ির ভেতর আটকে পড়ে ইচিকাওয়া, সাকুরা, ইয়াচিওয়া ও কাশিওয়া এলাকা থেকে একাধিক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার কারণেও প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকজন। চিবায় পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ৪ লাখের বেশি মানুষকে অবিলম্বে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ ও বিদ্যুতে চরম বিপর্যয়:

বৃষ্টির তোড়ে চিবা, সাইতামা ও ইবারাকি প্রিফেকচারের রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে। কেইয়ো, কুরুরি ও উচিবো লাইনে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্থগিত রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি টোকিওর কাছে অবস্থিত অন্যতম ব্যস্ততম নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাতায়াত পথ বন্ধ হয়ে পড়ায় বিমানবন্দর টার্মিনালেই রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন প্রায় সাত হাজার যাত্রী। অন্যদিকে, ঝোড়ো হাওয়ায় বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চিবায় প্রায় ৪৫ হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

সেনাবাহিনীর সহায়তা ও স্থানীয় প্রশাসন:

চিবার গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত নজিরবিহীন ও অস্বাভাবিক’ উল্লেখ করে বলেছেন, "মানুষের জীবন রক্ষা করাই আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ।" অবরুদ্ধ ও আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়ার কাজে গতি আনতে চিবা প্রিফেকচারাল সরকার ইতোমধ্যে জাপানের সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্সের (সশস্ত্র বাহিনী) সহায়তা চেয়েছে।

মন্তব্য করুন