ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থায় মুসলিম ব্রাদারহুড: দ্য ইকোনমিস্ট

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ণ
ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থায় মুসলিম ব্রাদারহুড: দ্য ইকোনমিস্ট
শীর্ষ নেতৃত্বের তীব্র দ্বন্দ্ব ও ভূ-রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে চরম অস্তিত্ব সংকটে প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাজুড়ে একসময় রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক-ধর্মীয় দল ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ বর্তমানে চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং মারাত্মক কাঠামোগত সংকটে পড়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর এক সাম্প্রতিক নিবন্ধ ও পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, প্রায় এক শতাব্দী প্রাচীন এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি এখন দ্বিখণ্ডিত হয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর ও দুর্বলতম অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।

লন্ডন-ইস্তাম্বুল বিভাজন ও তরুণদের হতাশা:

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাদারহুডের এই অভূতপূর্ব পতনের নেপথ্যে রয়েছে তাদের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের তীব্র দ্বন্দ্ব। বর্তমানে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট দুটি আলাদা শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে—যার একটির কলকাঠি নাড়া হচ্ছে লন্ডন থেকে এবং অপরটির নিয়ন্ত্রণ ইস্তাম্বুল থেকে।

সংগঠনের ভবিষ্যৎ কৌশল, তহবিলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং নেতৃত্বের বৈধতা দাবি করে এই দুই শিবিরের প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে মাঠপর্যায়ের তরুণ কর্মীরা দিকনির্দেশনাহীন ও চরম হতাশ হয়ে পড়ছেন। ফলে একটি বড় অংশ রাজনীতি বা সংগঠন থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিচ্ছেন।

রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির ধাক্কা:

২০১৩ সালে মিশরের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর থেকেই ব্রাদারহুড সরকার কর্তৃক অভাবনীয় কড়া দমন-পীড়নের মুখোমুখি হয়। হাজার হাজার নেতাকর্মী বন্দি আছেন অথবা বিদেশে নির্বাসনে জীবন কাটাচ্ছেন।

পাশাপাশি সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতেও ব্রাদারহুড বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। একসময় তুরস্ক ও কাতার প্রকাশ্যে দলটিকে আশ্রয় ও অর্থায়ন করলেও, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে আঙ্কারা ও দোহা সম্প্রতি মিশর ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। এর সরাসরি প্রভাবে নির্বাসিত ব্রাদারহুড নেতাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও তাদের চালিত সামাজিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

আবেদন হারাচ্ছে বিশ্বজুড়ে:

শুধু মিশর বা উপসাগরীয় অঞ্চলেই নয়; বরং তিউনিসিয়া ও মরক্কোর মতো উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতেও ব্রাদারহুডের আদর্শিক মিত্ররা রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

দ্য ইকোনমিস্টের বিশদে করা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে— রাষ্ট্রীয় কড়া নজরদারি, একাধিক সামাজিক ও কৌশলগত ব্যর্থতা এবং নতুন প্রজন্মের সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক ভাবনার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে ব্রাদারহুডের সেই পুরনো জোয়ার বা আবেদন আর অবশিষ্ট নেই। সংকট কাটিয়ে দলটি আর কখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল।

মন্তব্য করুন