অদক্ষ ও কিশোর শ্রমিকের মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি স্কপের
ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত অদক্ষ ও কিশোর শ্রমিকদের জন্য সম্প্রতি সরকার নির্ধারিত নতুন মজুরি কাঠামো বাতিল করে তা দ্রুত পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে এই মজুরিকে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ‘অমানবিক ও অযৌক্তিক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে স্কপ নেতারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং শ্রমিকের বাঁচার মতো মজুরি ঘোষণার জোর দাবি জানান।
নতুন গেজেট ও স্কপের আপত্তি:
বিবৃতিতে স্কপ নেতারা জানান, গত ৩ আগস্ট ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রকাশিত সরকারি গেজেটে অদক্ষ শ্রমিকের মূল মজুরি ৪ হাজার ৪৩০ টাকা (সর্বসাকুল্যে ৭ হাজার ২ টাকা) এবং কিশোর শ্রমিকের মূল মজুরি ৪ হাজার ৭৫ টাকা (সর্বসাকুল্যে ৬ হাজার ৫০৫ টাকা) নির্ধারণ করা হয়।
নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একই বাজারের ভোক্তা হওয়া সত্ত্বেও নবম পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বসাকুল্যে ৪১ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে বেসরকারি খাতের শ্রমজীবী মানুষের জন্য যে মজুরি ধার্য করা হয়েছে, তা দিয়ে পরিবার চালানো তো দূরের কথা, একজন শ্রমিকের একা বেঁচে থাকাই অসম্ভব। এ সিদ্ধান্ত শ্রমিকের মনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।"
উৎপাদনশীলতা ও জীবনযাত্রার ব্যয়:
শ্রমিক নেতারা প্রশ্ন তোলেন, ন্যূনতম জীবনধারণের সুবিধা না পেলে একজন শ্রমিক কীভাবে কাজে মনোযোগী হবেন বা উৎপাদনশীলতায় অবদান রাখবেন? মূল্যস্ফীতি, কাজের ঝুঁকি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে তোয়াক্কা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
যৌথ বিবৃতিতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের মো. আনোয়ার হোসেন ও নুরুল ইসলাম খান নাসিম, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, জাতীয় শ্রমিক জোটের মেসবাহউদ্দিন আহমেদ ও মো. নুরুল আমিন, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের শাহ মো. আবু জাফর ও সাকিল আক্তার চৌধুরী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের রাজেকুজ্জামান রতন ও আহসান হাবিব বুলবুলসহ বিভিন্ন সহযোগী শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা স্বাক্ষর করেন।
|