রাজনীতি সামলেও স্নাতকে প্রথম ছাত্রদলের মেহেদী

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ণ
রাজনীতি সামলেও স্নাতকে প্রথম ছাত্রদলের মেহেদী

আতিকুর রহমান, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনীতি ও পড়াশোনাকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, তা নিজের মেধা ও ফলাফলের মাধ্যমে বদলে দিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের কৃষি বিভাগের ছাত্র মো. মেহেদী হাসান মুন্না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেও স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষায় তিনি ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছেন।

সদ্য প্রকাশিত স্নাতকের চূড়ান্ত ফলাফলে সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৮৮ অর্জন করে কৃষি বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মেহেদী হাসান।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ক্যম্পাসে ছাত্রদলের নানা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সামনের সারিতে থাকলেও তা পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটাতে দেননি তিনি। সময় সচেতনতা, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে রাজনীতি এবং শিক্ষাজীবনের মধ্যে চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে গেছেন।

নিজের এই সাফল্য প্রসঙ্গে মেহেদী বলেন, "ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে ধারণ করে আসছি। নোবিপ্রবি ছাত্রদল আমাকে কোনো দিন ক্লাস-পরীক্ষা বাদ দিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার চাপ দেয়নি। বরং সিনিয়রদের কাছ থেকে পড়াশোনা সম্পর্কিত সঠিক দিকনির্দেশনা পেয়েছি। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে থাকলেও ক্লাসে আমার ১০০% উপস্থিতি ছিল। জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।"

নিজের অতীতের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, স্কুলজীবনেও বাধার মুখে পড়েছিলেন। ১০ম শ্রেণিতে থাকাকালীন স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের রোশনালে পড়ে শারীরিক নির্যাতন ও হুমকির শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে। সেসব বাধা পেরিয়েও তিনি এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।

মেহেদী আরও যোগ করেন, "ছাত্রদল করলেই ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যায়—এই কথাটি ভিত্তিহীন। সুশৃঙ্খলভাবে সময় নিয়ন্ত্রণ করলে ইতিবাচক রাজনীতি নেতৃত্বের গুণের পাশাপাশি ভালো ফলাফলেও সহায়তা করে।"

নোবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে মেহেদীর এই অর্জন ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ছাত্ররাজনীতি চর্চার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন