আইএইএর বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতির অভিযোগ: কিম ইয়ো জংয়ের কড়া হুঁশিয়ারি
অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাধারণ সম্মেলনে গৃহীত একটি বিশেষ প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। ওই প্রস্তাবে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করে নিরস্ত্রীকরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। তবে পিয়ংইয়ং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অবস্থান 'অপরিবর্তনীয়' এবং তা দেশের আত্মরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সুরক্ষিত রয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সিতে (কেসিএনএ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উসকানিতে তৈরি এই প্রস্তাব পিয়ংইয়ংয়ের অর্জিত পরমাণু মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করতে পারবে না। অন্যদিকে, কিম জং উনের ক্ষমতাধর বোন কিম ইয়ো জং এক পৃথক বিবৃতিতে জাতিসংঘের এই পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পক্ষপাতদুষ্ট দালাল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের দ্বৈত নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।
আইএইএর সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনার আবহেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির প্রধান প্রধান অস্ত্র ও গোলাবারুদ কারখানা পরিদর্শন করেছেন। একই সময়ে আধুনিক প্রচারকৌশল ব্যবহারের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে পিয়ংইয়ং সামরিক ক্ষেত্রে দ্রুত আধুনিকায়ন করছে।
এদিকে, পারমাণবিক উত্তেজনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে ম্যয়ং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পুনরায় সরাসরি সংলাপ শুরুর আভাস দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে কিম জং উনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার একটি পরিকল্পনা তাঁর রয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অবস্থান সংকুচিত করবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।