ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের
সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, “যে মুহূর্তে আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে—আর পানি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তারই অবিচ্ছেদ্য অংশ—তখন আমরা ভারতের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধে যাব।” তিনি অভিযোগ করেন, ভারত পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং চেনাব নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে।
গত এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পাহলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জেরে ভারত সরকার ১৯৬০ সালের সিন্ধু নদ জলচুক্তিটি স্থগিত ঘোষণা করে। ভারতের শর্ত, যতক্ষণ পাকিস্তান সীমান্ত পারের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংস না করবে, ততক্ষণ এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তির অধীনে পাকিস্তান সিন্ধু অববাহিকার ৮০ শতাংশ পানি ব্যবহারের অধিকার পায়।
পাকিস্তানের অভিযোগের বিপরীতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশটির অভ্যন্তরে তীব্র অব্যবস্থাপনা ও সেচ অবকাঠামোর ব্যর্থতাই এই পানির সংকটের মূল কারণ। বর্তমানে সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পানির অভাবে ভুগছে এবং সুক্কুর ব্যারাজে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও গত এক বছরে সীমান্তের ওপারে ভারতের জলপ্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায়, তার এই যুদ্ধের হুমকির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে দৃষ্টি সরাতেই পাকিস্তান সরকার ভারতের বিরুদ্ধে এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য করছে।
জান্নাত সকালবেলা
|