ইসরায়েলের হামলায় ৪ সন্তান হারিয়ে নিঃস্ব ফিলিস্তিনি মা
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গাজা উপত্যকার আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে রাতের আঁধারে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১৫ মাসের অবুঝ শিশু জাইদ নোফালের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ হামলায় চরমভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তার ৩৮ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি মা ফাতিমা নোফাল, যিনি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ নিয়ে একে একে তাঁর চার সন্তানকেই হারালেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার গভীর রাতে প্রচণ্ড গরমের কারণে ঘরের খোলা জানালার পাশে ঘুমিয়ে রাখা হয়েছিল ১৫ মাস বয়সী জাইদকে। রাত তিনটার দিকে বিমান হামলায় তাদের বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলে সেই ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে শিশু জাইদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার পর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় মা ফাতিমা নোফাল সন্তানের খোঁজে প্রতিবেশীদের কাছে ব্যাকুল হয়ে আকুতি জানান। পরবর্তীতে চাদরে মুড়িয়ে জাইদকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এটি ফাতিমা নোফালের চতুর্থ সন্তান হারানোর করুণ ঘটনা। এর আগে ২০২৩ সালের ১৩ অক্টোবর ইসরায়েলি হামলায় তিনি তাঁর তিন ছেলে—১৬ বছরের আমিন, ১১ বছরের হামজা এবং মাত্র ২২ দিন বয়সী শিশু আহমেদকে একসাথে হারিয়েছিলেন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার দশ মাস পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিল শিশু জাইদ। পুরো পরিবার তাকে নতুন আশা ও বেঁচে থাকার সম্বল হিসেবে আঁকড়ে ধরেছিল।
সর্বশেষ এই হামলায় জাইদের মৃত্যুর পাশাপাশি ফাতিমার দুই কন্যাসন্তানও গুরুতর আহত হয়। এদের মধ্যে ছোট মেয়ে লিনা মাথায় মারাত্মক আঘাত নিয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ‘ইউনিসেফ’ জানিয়েছে, তথাকথিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেও গত দশ মাসে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ১,২০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ২৬০ জনই শিশু। সংস্থার মুখপাত্র জেমস এল্ডার একে ‘যুদ্ধবিরতির নিষ্ঠুর ও প্রাণঘাতী অলীক মায়াজাল’ বলে অভিহিত করেছেন।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে অশ্রুসজল চোখে মা ফাতিমা বলেন, “ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে নারী ও শিশুদের নিশানা বানিয়ে হত্যা করছে। ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত আমি আমার চার ছেলেকে হারিয়েছি। আমার বুকের ভেতরে আজ তুষের আগুন জ্বলছে, আমি জানি না কে এই আগুন নেভাবে।
|