ক্ষমতায় এলে কাতারকে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ ঘোষণার হুঙ্কার নাফতালি বেনেটের
অনলাইন ডেস্ক: ইসরায়েলের জাতীয় রাজনীতিতে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে পারলে আরব দেশ কাতারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। শুধু তা-ই নয়, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রভাবশালী ধনী দেশটি ইসরায়েলের জন্য ‘ইরানের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক’ ও ক্ষতিকর ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘টেলিভিশন চ্যানেল ১২’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের এই কঠোর ও আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থানের কথা প্রকাশ করেন নাফতালি বেনেট।
সাক্ষাৎকারে কাতারকে এ যাবতকাল ইসরায়েলের শত্রু রাষ্ট্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করাকে তেল আবিবের জন্য একটি ‘অমার্জনীয় রাজনৈতিক ও কৌশলগত ভুল’ বলে অভিহিত করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
নিজের বিস্ফোরক দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বেনেট বলেন, “ইরান প্রকাশ্যেই বিশ্বের মানচিত্র থেকে ইসরায়েলকে মুছে ফেলার কথা ঘোষণা করে, যা সবার জানা। কিন্তু কাতার প্রকাশ্য লড়াইয়ের বদলে পর্দার আড়ালে থেকে ধূর্ততা ও অর্থ দিয়ে কলকাঠি নাড়ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে পরিচালিত হামলার মূল অর্থায়ন এসেছে কাতার থেকেই। এর পাশাপাশি তাদের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’ বিশ্বজুড়ে সার্বক্ষণিক ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিষাক্ত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।”
কাতারের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে কড়া সমালোচনা করে তিনি আরও অভিযোগ জানান, দোহা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে সেখানে নিজেদের মতাদর্শ ও প্রভাব বিস্তার করছে।
এমনকি বর্তমানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত কাতারের অদৃশ্য হাত ও প্রভাব পৌঁছে গেছে বলে দাবি তোলেন বেনেট। তার ভাষ্যমতে, কাতার সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্র না চালিয়েও কূটনীতি ও অর্থের মাধ্যমে ইসরায়েলকে ভেতর থেকে প্রতিনিয়ত ধসিয়ে দেওয়ার সুপরিকল্পিত কৌশল অবলম্বন করেছে।
|