পাতারটেক ‘জঙ্গি নাটক’ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিচার শুরুর শুনানি

প্রকাশ: রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ণ
পাতারটেক ‘জঙ্গি নাটক’ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিচার শুরুর শুনানি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে বেরিয়ে আসছেন প্রসিকিউটর ও আইনজীবীরা। (ছবি: ফাইল ছবি)

অনলাইন ডেস্কঃ গাজীপুরের পাতারটেকে তথাকথিত ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন এবং বিচার কার্যক্রম শুরু করার আর্জি জানিয়ে শুনানি শেষ করেছে প্রসিকিউশন।

আজ রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ সংক্রান্ত আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তাঁকে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মামুনুর রশিদ ও মার্জিনা রায়হান।

শুনানিতে শেখ হাসিনা আমলের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, “বিগত সরকারের সময় ভিন্ন রাজনৈতিক মত ও ইসলামী মতাদর্শকে দমনে দেশজুড়ে একটি সুনির্দিষ্ট ভয়াবহ ছকে গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার কালচার গড়ে তোলা হয়েছিল। সরকারের সমালোচনা করলেই গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হতো। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে ‘জঙ্গিবাদ আক্রান্ত’ হিসেবে উপস্থাপন করতে পরিকল্পিতভাবে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজানো হতো।”

পাতারটেক হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে প্রসিকিউটর জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজনকে তুলে নিয়ে বগুড়ার একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় সোলায়মান সরকারের বাড়িতে নিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সোয়াট সদস্যদের মাধ্যমে ‘অপারেশন শরতের তুফান’ নাম দিয়ে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়।

এমনকি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিহতদের মরদেহ নিতে আসা স্বজনদের ওপর মামলা ও তদন্তের হুমকি দিয়েছিলেন। ফলে ভয়ে দীর্ঘ সময় কেউ নিহতদের লাশ নেওয়ার কিংবা মুখ খোলার সাহস পাননি। শেখ হাসিনার পতনের পর ২০২৪ সালের শেষভাগে নিহতদের মধ্যে মো. ইবরাহীম নামের এক ভুক্তভোগীর বাবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করেন।

আজকের শুনানিতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা মামলার আসামি সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক ও সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়াকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

মামলার অন্য পলাতক আসামিরা হলেন— ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক এসবি প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, বগুড়ার তৎকালীন এসপি আসাদুজ্জামান, গাজীপুরের তৎকালীন এসপি ও ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বগুড়ার তৎকালীন অতিরিক্ত এসপি আরিফুর রহমান মণ্ডল এবং সিটিটিসির তৎকালীন এসি (সোয়াট টিম লিডার) এসএম জাহাঙ্গীর হাছান।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগপত্রের কাগজপত্র দেরিতে পাওয়ার কারণ দর্শিয়ে ডিসচার্জ আবেদনের প্রস্তুতি নিতে সময় প্রার্থণা করেন। প্রসিকিউশন এতে আপত্তি না জানানোয় আগামী ১০ আগস্ট আসামিপক্ষের শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

মন্তব্য করুন