শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড থেকে বক্তব্য না দেন: ভারতীয় হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশ: সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড থেকে বক্তব্য না দেন: ভারতীয় হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী (ছবি: সৌজন্যে)।

বিশেষ প্রতিবেদক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান কিংবা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো প্রকার অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চালাতে না পারেন, সে বিষয়ে নয়াদিল্লির সক্রিয় ও দৃঢ় সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। 

আজ সোমবার (৩ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের পাশাপাশি এই গুরুত্বপূণ স্পর্শকাতর দাবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের সার্বিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের পাশাপাশি সীমান্ত ও ভূ-রাজনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনাকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্পষ্ট করে জানান, শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের মাটি বা সামাজ মাধ্যম ব্যবহার করে উসকানিমূলক রাজনৈতিক বিবৃতি প্রদান কিংবা বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন। সে বিষয়ে ভারতের পূর্ণ সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো হলে তা বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বিশেষ করে, আগামী ৫ আগস্ট উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে পারেন বলে যে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে, বৈঠকে সে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

জবাবে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং ইতিবাচক ভূমিকা পালনে ভারতের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সচেষ্ট থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেন।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বজায় রাখা আস্থা ও অভিন্ন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আগামী দিনে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার আশাবাদ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ ও গঠনমূলক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

মন্তব্য করুন