সমুদ্রের রূপে হাওর, কিশোরগঞ্জে ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপচে পড়া ভিড়
নূর আহাম্মদ পলাশ, কিশোরগঞ্জ: বর্ষা আর পাহাড়ি ঢলের পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল। চারদিকে অথৈ জলরাশি, নীল আকাশ, জলের বুকে উড়ে বেড়ানো সাদা বকের দল আর ছড়ানো-ছিটানো ছোট ছোট গ্রামের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মুগ্ধ করছে রূপপিপাসুদের। বর্ষার এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসছেন নিকলী, মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম হাওরে।
বর্ষা মৌসুমে দিগন্তজোড়া জলরাশি হাওরে যেন এক বিশাল সমুদ্রের আবহ তৈরি করে। নিকলীর ছাতিরচরের সোয়াম্প ফরেস্টে পানির মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা হিজল-করচের সারি দর্শনার্থীদের সিলেটের রাতারগুলের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়।
এ ছাড়া পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ঘিরে রয়েছে ‘ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়ক’। হাওরের বুক চিরে নির্মিত এই সড়কে যাতায়াত ও দু'পাশে অতল জলরাশি দর্শনার্থীদের ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
ভোর থেকেই বালিখলা, নিকলী বেড়িবাঁধ ও হাসানপুর সেতু ঘাটে পর্যটকদের ভিড় জমে। ট্রলার ও স্পিডবোট ভাড়া করে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি হাওরের টাটকা বোয়াল, চিতল, আইড় ও পাবদা মাছের স্বাদ নিচ্ছেন ভ্রমণকারীরা। ফলে ঘাটসংলগ্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় সেবাখাতে ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নৌ-পুলিশের তদারকি জোরদার করা হয়েছে। ট্রলারে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার নিশ্চিতের পাশাপাশি নৌযানের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে নজরদারি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা পেলে কিশোরগঞ্জের হাওর আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
এআইএল/সকালবেলা
|