ইরানে ট্রাম্পের হামলা রুখে দিলেন সৌদি যুবরাজ
অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বড় ধরনের বিধ্বংসী যুদ্ধ এড়াতে মার্কিন প্রশাসন ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর বড় ধরনের কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান। সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে ইরানে কোনো ধরনের সামরিক হামলা না চালানোর জোর আহ্বান জানান তিনি। রিয়াদের এই সরাসরি বার্তা ও শঙ্কার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সম্ভাব্য আক্রমণের সিদ্ধান্ত থেকে সাময়িকভাবে পিছু হটেছেন।
সৌদি আরবের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা, ইরানে যেকোনো মার্কিন বা ইসরায়েলি সামরিক অভিযান পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এক মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। যা সৌদি আরবের মেগা অর্থনৈতিক রূপকল্প ‘ভিশন ২০৩০’ (Vision 2030)-এর সফল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকট তৈরি করবে।
ঘটনার পেছনে মূল অনুঘটক ছিল সম্প্রতি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট 'বাব-এল-মান্দেব' ও 'হরমুজ প্রণালি'-তে নৌ চলাচলে তীব্র প্রতিবন্ধকতা তৈরি। এরই জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ইরানের ভেতরের বিভিন্ন সামরিক কৌশলগত পয়েন্ট ও জ্বালানি অবকাঠামোয় বিমান হামলার পরিকল্পনা সাজাচ্ছিল। তবে রিয়াদ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—এ মুহূর্তে নতুন কোনো সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাবে।
এদিকে তেহরানও অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন কোনো হামলা চালালে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য শত্রুভাবাপন্ন দেশের অবকাঠামো ও তেল শোধনাগারে সরাসরি পাল্টা আঘাত হানা হবে। এমনকি মার্কিন কোনো হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ যদি নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়, তাদেরকেও সমপরিমাণ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সৌদি সামরিক বিশ্লেষকদের অভিমত, দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে গিয়ে রিয়াদ বাস্তবসম্মত শিক্ষা পেয়েছে যে, কেবল বোমাবর্ষণ বা সামরিক শক্তিবলে আঞ্চলিক জটিল সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়। নিজেদের জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সংঘাতের বদলে কূটনীতিকেই মূল হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছে তারা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের প্রধান সাপ্লাই চেন ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারে কাতার ও ওমানের মতো আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোও সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
|