খতিবকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় রাজকীয় বিদায় মুরাদপুর এলাকাবাসীর

প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ অপরাহ্ণ
খতিবকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় রাজকীয় বিদায় মুরাদপুর এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদায়ের মুহূর্তটি সাধারণত বেদনার হয়, কিন্তু সেই বিদায় যদি হয় কোনো প্রাজ্ঞ আলেম ও প্রিয় খতিবের, তবে তা রূপ নেয় গভীর আবেগের এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-জুরাইন এলাকার মুরাদপুর আউটার সার্কুলার রোড জামে মসজিদে (যা স্থানীয়ভাবে ‘নোয়াখালী পট্টি জামে মসজিদ’ নামে সমধিক প্রসিদ্ধ) তেমনই এক হৃদয়স্পর্শী ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলেন হাজারো মানুষ।

দীর্ঘ ৭ বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে এই মসজিদে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বিশিষ্ট আলেম মুফতি রবিউল ইসলাম। তিনি এই এলাকারই সুপরিচিত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘হাজী ইউনুস মাদরাসা’র একজন অত্যন্ত সুধন্য মুহাদ্দিস ও জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক। গত শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবা শেষে তিনি আকস্মিকভাবে এই মসজিদ থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মসজিদ কমিটির অভ্যন্তরীণ অরাজকতা, খামখেয়ালিপনা ও চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে এবং নিজের আত্মমর্যাদা রক্ষার্থেই তিনি এই প্রিয় আঙিনা থেকে স্বেচ্ছায় বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জুমার মিম্বরে দাঁড়িয়ে খতিব সাহেবের এই আকস্মিক বিদায়ের ঘোষণা শোনার সাথে সাথেই পুরো মসজিদ জুড়ে এক স্তব্ধতা নেমে আসে।

নামাজ শেষে উপস্থিত বিপুল পরিমাণ মুসল্লি খতিব সাহেবের পক্ষে এবং মসজিদ কমিটির স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রিয় ইমামকে হারানোর বেদনায় অনেক সাধারণ মুসল্লি ও বৃদ্ধ মানুষ অশ্রুসজল হয়ে পড়েন। মসজিদ প্রাঙ্গণেই তাৎক্ষণিকভাবে কমিটির অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে এবং খতিব সাহেবের প্রতি সংহতি জানিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন মুসল্লিরা।

সমাবেশ শেষে খতিব মুফতি রবিউল ইসলামকে বিদায় জানাতে মুসল্লিরা যে ভালোবাসার নজরানা পেশ করেন, তা ঢাকার ইতিহাসে সচরাচর দেখা যায় না। শত শত ধর্মপ্রাণ তরুণ ও সাধারণ মুসল্লি বিশাল এক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করেন। জুরাইনের অলিগলি প্রদক্ষিণ করে এই অভূতপূর্ব শোডাউনটি ঢাকার প্রবেশদ্বার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে গিয়ে পৌঁছায়।

পুরো পথজুড়ে প্রিয় খতিব সাহেবকে ফুলের মালা পরিয়ে এবং স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে রাজকীয় সম্মানের সাথে বিদায় দেওয়া হয়। মোটরসাইকেলের এই দীর্ঘ বহর আর মানুষের ভালোবাসার জোয়ার দেখে এক্সপ্রেসওয়ের পথচারীরাও থমকে দাঁড়ান।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ওলামায়ে কেরাম বলছেন, একজন ইমাম বা খতিবের প্রতি সাধারণ মানুষের এই অকৃত্রিম ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা সত্যিই বিরল। মসজিদ কমিটির অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে সাধারণ মুসল্লিদের এই স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ ও খতিব সাহেবের প্রতি রাজকীয় সম্মান প্রদর্শন কেবল তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রমাণ নয়, বরং এটি আলেম সমাজের প্রতি এ দেশের তাওহিদী জনতার গভীর শ্রদ্ধাবোধেরই এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন