সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ড ফুটবল দলে সুখবর, ফিরলেন রিস জেমস

প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ণ
সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ড ফুটবল দলে সুখবর, ফিরলেন রিস জেমস

স্পোর্টস ডেস্ক: চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে বড় ধরনের বুস্ট-আপ পেল ইংল্যান্ড ফুটবল দল। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠে ফিরতে পেরে উছ্বসিত ইংলিশ ডিফেন্ডার রিস জেমস (Reece James)। নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে নিজের ফিরে আসার রাজকীয় বার্তা দিয়েছেন এই চেলসি তারকা।

গ্রুপ পর্বে ঘানার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান জেমস। এরপর ইংল্যান্ডের টানা তিনটি ম্যাচে সাইডবেঞ্চে দর্শক হয়ে বসে থাকতে হয়েছিল তাকে। তবে নকআউটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ের ম্যাচে দ্বিতীয়ার্থের শেষ দিকে ওলে গানারদের রুখতে মাঠে নামানো হয় জেমসকে। শুরুতে কৌশলগত কারণে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও কিছুক্ষণ পর নিজের পরিচিত রাইট-ব্যাক পজিশনে ফিরে যান তিনি। ওই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহামের জাদুকরী জোড়া গোলে জয় পেয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। যেখানে শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরে নিজের স্বস্তির কথা জানিয়ে রিস জেমস বলেন, “দলের বাকি ছেলেদের সঙ্গে আবারও চোট কাটিয়ে সবুজ মাঠে ফিরতে পেরে অন্যরকম ভালো লাগছে। টুর্নামেন্টের মাঝপথে এভাবে হুট করে চোট পাওয়া সবসময়ই মানসিকভাবে সময়ের সঙ্গে এক কঠিন লড়াইয়ের মতো। তবে আমি হাল ছাড়িনি, নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং সেমিফাইনালের আগে মাঠে ফিরতে পেরে আমি ভীষণ খুশি।”

চলতি বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ড দল এখনও পর্যন্ত তাদের চেনা সেরা ছন্দে না থাকলেও, প্রতিটি বাধা বেশ পেশাদারিত্বের সাথেই পেরিয়ে চলেছে। তবে ফাইনালে যাওয়ার ঠিক আগের ধাপে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংলিশদের ম্যাচটি যে সবসময়ই এক ঐতিহাসিক ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও স্নায়ুচাপের স্মারক, তা অকপটে স্বীকার করেছেন ২৬ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।

জেমস বলেন, “এই ধরনের বিগ-ম্যাচগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টুর্নামেন্টের ম্যাচের গুরুত্ব যত বাড়ে, মাঠ ও মাঠের বাইরের মানসিক চাপও তত বাড়ে। আমরা বছরের পর বছর ধরে এই ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্যই নিজেদের প্রস্তুত করেছি। লড়াইয়ের মূল বিষয়গুলো সবসময় একই থাকে, শুধু এবার জেতার পর পুরস্কারটা (বিশ্বকাপ ফাইনাল) অনেক বড়।”

নিজের শৈশবের স্বপ্নপূরণের কথা জানিয়ে জেমস আরও যোগ করেন, “আমরা বর্তমানে বাইরের কোনো সমালোচনা বা আলোচনা শুনছি না, নিজেদের একটা নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যে বন্দি রেখে মূল লক্ষ্য পূরণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। আমরা আনন্দিত যে দেশের মানুষকে এই পর্যন্ত এনে গর্বিত করতে পেরেছি। ছোটবেলায় প্রতিটি ফুটবলারই বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলার এবং সোনালী ট্রফিটি ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখে। এখন আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল পরাশক্তির বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলতে যাচ্ছি, আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব।” চোট কাটিয়ে জেমসের এই ফেরা আর্জেন্টিনার বিশ্বসেরা আক্রমণভাগকে রুখে দিতে ইংলিশ কোচকে এক বড় চালের সুবিধা দেবে, তা বলাই বাহুল্য।

মন্তব্য করুন