দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের আরও ২ বছরের কারাদণ্ড
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার বিতর্কিত ও অভিশংসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের চলমান আইনি সংকট আরও গভীর হলো। রাজনৈতিক সমর্থনের বিনিময়ে অবৈধভাবে বিনা মূল্যে জনমত জরিপের সুবিধা নেওয়ার দায়ে সোমবার (১৩ জুলাই) দেশটির একটি আদালত তাঁকে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের এক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি-কে জানান, রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালত ৬৫ বছর বয়সী ইউন সুক ইওলকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা প্রদান করেছেন।
মামলার বিবরণী ও আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ সালের একটি সংসদীয় উপনির্বাচনে নিজের দলীয় এক মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে ইউন সুক ইওল অবৈধ সুবিধা নিয়েছিলেন। রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, ইউন এবং তাঁর স্ত্রী তথা সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিওন হি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দালাল মিয়ং তে-কিউনের সমর্থিত এক প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দিতে সাহায্য করেন। এর বিনিময়ে ওই দালালের কাছ থেকে ১৪টি বিনা মূল্যের জনমত জরিপের সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন তাঁরা।
আদালত এক বিবৃতিতে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেছে, “ইউন সুক ইওলের এই কর্মকাণ্ড রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের অবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়েছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুষ্ঠু বিকাশ সম্পর্কে মানুষের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাই আসামির এই অপরাধের মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর।” একই মামলায় ঘুষদাতা ও প্রভাবশালী দালাল মিয়ং তে-কিউনকেও দোষী সাব্যস্ত করে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অবশ্য আদালতের এই রায়কে সম্পূর্ণ ‘অনুমানের ভিত্তিতে দেওয়া’ দাবি করে ইউনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
এই একই মামলায় সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিওন হির বিরুদ্ধে আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে নিম্ন আদালতের দুটি রায়ে তিনি খালাস পেয়েছিলেন। তবে অন্যান্য মামলায় কিম ইতিমধ্যেই কারাদণ্ড ভোগ করছেন। উপহারের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে একটি ঘুষ মামলায় তিনি ৭ বছর এবং শেয়ারবাজারে কারসাজি ও দুর্নীতির একটি পৃথক মামলায় ৪ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত আছেন।
সোমবারের এই ২ বছরের কারাদণ্ডের রায়টি ইউনের পূর্বের সামরিক আইনসংক্রান্ত মামলার সাথে সম্পর্কিত নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আকস্মিক সামরিক আইন জারি করে দক্ষিণ কোরিয়াকে এক মহাসংকটে ফেলেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইউন। পরবর্তীতে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের তোপে সেই আদেশ বাতিল হয় এবং অভিশংসনের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
২০২৪ সালের সেই সামরিক আইন জারি ও বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে একটি পৃথক মামলায় তাঁকে ইতিমধ্যেই ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’ দেওয়া হয়েছে, যার বিরুদ্ধে তিনি বর্তমানে আপিল করছেন। এছাড়া, উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধংদেহী সংকট সৃষ্টি করার আরেকটি মামলায় তাঁকে গত সপ্তাহে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নতুন এই ২ বছরের সাজার ফলে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের কারাগার থেকে মুক্তির পথ পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে গেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
|