ফ্রান্সের সংকটকে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রচারের হাতিয়ার করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা রিপাবলিকান পার্টির সমর্থন ধরে রাখতে বিদেশি সংকটকে কাজে লাগাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষকসংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে যে বিক্ষোভ ও সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছে, তাকে নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রধান হাতিয়ার বানিয়েছেন তিনি। ফরাসি এই আন্দোলনকে অভিবাসন এবং পশ্চিমা সভ্যতার ‘অবক্ষয়ের বিপদ’ হিসেবে তুলে ধরে মার্কিন ভোটারদের মেরুকরণের চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গত শনিবার ফ্রান্সজুড়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরবর্তীতে কয়েকটি শহরে লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঐতিহাসিক নগর ভবনে আগুন দেওয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তারের পর ফরাসি প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, একসময়ের মহান দেশ ফ্রান্সকে লুট করে এবং পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে অভিবাসী, জিহাদি এবং কমিউনিস্টরা। সমাবেশে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে কী ঝুঁকির মুখে রয়েছে, তা দেখতে চাইলে ফ্রান্সে কী ঘটছে, সেদিকে তাকান।” ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, হোয়াইট হাউসে যোগাযোগের সময় তিনি মাখোঁকে বড় ভুল করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হাউসের স্পিকার মাইক জনসনও ফ্রান্সের পরিস্থিতির জন্য উদারপন্থীদের উন্মুক্ত সীমান্ত নীতিকে তীব্র ভাষায় দায়ী করেছেন।
এদিকে নির্বাচনী প্রচারণায় বৈদেশিক ইস্যু টেনে আনলেও দেশের ভেতরে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বর্তমানে বেশ নিম্নগামী। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার মাত্র ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালানোর ফলে বিশ্ববাজারে পেট্রলের দাম বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট ৬৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের এই কমে যাওয়া জনপ্রিয়তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কানসাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতেও, যেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন রিপাবলিকানরা। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ট্রাম্প ও তাঁর দল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।