আনন্দপুর-তিলপাড়া সড়কে ডাকাতির আতঙ্ক, এমপির হুঁশিয়ারির পর ফের ছিনতাই
মোঃ শরীফ উদ্দিন (নাসিরনগর প্রতিনিধি): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার আনন্দপুর-তিলপাড়া সড়কের মধ্যবর্তী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় একের পর এক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যাত্রীদের আটকে ধারালো অস্ত্র, ছুরি, দা ও বল্লম দিয়ে আঘাত করে টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এতে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ, যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার চরম অবনতি ঘটেছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্য এম এ হান্নান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও একই এলাকায় একের পর এক ডাকাতির ঘটনা ঘটে চলেছে। সর্বশেষ ২০ অক্টোবর সকালেও মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার নতুন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় কয়েকজন যুবক রিকশায় করে নাসিরনগর থেকে লক্ষ্মীপুর যাওয়ার পথে আনন্দপুর-তিলপাড়ার মধ্যবর্তী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েন। তাঁদের মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় এক যুবক মোবাইল ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওই যুবক এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, অপরাধপ্রবণ এলাকায় দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন সদস্যকে তিলপাড়ার একটি টং দোকানে চা পান করতে দেখেছেন।
ভুক্তভোগীর ভিডিও বার্তার পর সংসদ সদস্য এম এ হান্নান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি সন্ধ্যায় এমন অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ও সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলার কথাও জানানো হয়।
সংসদ সদস্যের নির্দেশ ও হুঁশিয়ারির পরও থেমে নেই অপরাধ। পরদিন ভোরে ফজরের আজানের সময় একই ব্রিজের কাছে আরও একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। চাপরতলা ইউনিয়নের এক দম্পতি ঢাকা থেকে চিকিৎসা শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। গাড়িতে থাকা অন্য যাত্রীদেরও টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এ সময় বাঁধা দিলে একজনকে দা দিয়ে কুপিয়ে এবং আরেকজনকে বল্লম দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। এমনকি অসুস্থ ওই নারীকে গহনা ছিনিয়ে নিতে শারীরিক নির্যাতন ও হেনস্তা করার অভিযোগও উঠে এসেছে।
সর্বশেষ ২০ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে পূর্বভাগ বাজারের দুই মাছ ব্যবসায়ী মাছ কেনার উদ্দেশ্যে নাসিরনগর আড়তে যাওয়ার পথে তিলপাড়া সড়কে দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েন। দুর্বৃত্তরা তাঁদের আটকে ১৪ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের মারধর ও আহত করে ছেড়ে দেয়।
এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল আলম জানান, এসব সুনির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ তাঁদের কাছে আসেনি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি জানান, গত সাত দিনে ডাকাতির অভিযোগে ৭ থেকে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ডাকাতদের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আনন্দপুর-তিলপাড়া সড়ক ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও বাসাবাড়িতে চুরি-ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছেন স্থানীয়রা।
এআইএল/সকালবেলা