সুদানজুড়ে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের ভয়াবহ ড্রোন হামলা, নিহত ১৬০ ছাড়াল

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
সুদানজুড়ে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের ভয়াবহ ড্রোন হামলা, নিহত ১৬০ ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশ সুদানে সরকারি সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যকার দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে ড্রোন হামলার ভয়াবহতা সর্বকালের চরম সীমায় পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৬০ জনেরও বেশি নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

চিকিৎসক দল, আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা এবং মানবাধিকার কর্মীদের সূত্রের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সবচেয়ে নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিম কর্ডোফানের আল-দিবাব শহরের একটি জনবহুল বাজার সংলগ্ন পরিবহন কেন্দ্রে। সাপ্তাহিক হাট শেষে স্থানীয় গ্রামবাসীরা যখন নিজ নিজ বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে যানবাহনের অপেক্ষায় ছিলেন, ঠিক সে মুহূর্তে একটি বিধ্বংসী ড্রোন সরাসরি তাদের ওপর আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই ৮০ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান এবং পরবর্তীতে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়, যা একক হামলায় নিহতের সংখ্যা ১১০ এ পৌঁছায়।

মানবাধিকার সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা এই পাশবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার জন্য সুদান সরকারি বিমান বাহিনীকে সরাসরি দায়ী করেছে।

অন্যদিকে, রাজধানী খার্তুম, দক্ষিণ দারফুর এবং প্রতিবেশী ইথিওপিয়া সীমান্তবর্তী ব্লু নাইল প্রদেশেও ব্যাপক হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষ আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ। ব্লু নাইল প্রদেশে ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি জনসমাবেশে আরএসএফের ড্রোন হামলায় অন্তত ৪১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধে সম্প্রতি উভয় পক্ষই নিখুঁত ও বিধ্বংসী ড্রোনের অনিয়ন্ত্রিত ও ব্যাপক ব্যবহার শুরু করায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বাড়ছে। এমনকি পূর্ব সুদানের অতি গুরুত্বপূর্ণ আতবারা এবং সেতিত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাঁধ লক্ষ্য করেও একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

সংঘাতের এই ভয়াবহ রূপ দেখে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ২০২৩ থেকে চলা এই গৃহযুদ্ধের দরুন সুদান বর্তমানে পৃথিবীর বৃহত্তম মানবিক সংকট ও দুর্ভিক্ষময় এলাকায় পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি শিশু চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে অবিলম্বে একটি মানবিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা এবং সমগ্র সুদানজুড়ে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে সম্প্রসারণের জোর দাবি জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।