ইউরোপজুড়ে কেন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে যৌনরোগ?

প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ণ
ইউরোপজুড়ে কেন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে যৌনরোগ?
ইউরোপে যৌনবাহিত রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণার প্রতীকী চিত্র।

ইউরোপের দেশগুলোতে গনোরিয়া, সিফিলিস এবং ক্ল্যামাইডিয়ার মতো মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত যৌনবাহিত রোগের (এসটিআই) সংক্রমণ স্মরণকালের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ইসিডিসি)-এর সাম্প্রতিক তথ্যের বরাতে চাঞ্চল্যকর এই খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত এক দশকে ইউরোপে এই সংক্রমণ রেকর্ড গড়েছে, যা ইউরোপীয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলেছে। সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা না নিলে এসব রোগের কারণে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, স্থায়ী বন্ধ্যাত্ব এবং স্নায়ু ও হৃদরোগের মতো মারাত্মক শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের পেছনে একাধিক সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ কাজ করছে:

  • মানসিকতার পরিবর্তন ও ভয় কমা: আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির কল্যাণে এইচআইভি প্রতিরোধী কার্যকর ওষুধ (যেমন পিআরইপি) সহজলভ্য হওয়ায় মানুষের মধ্যে আগের মতো ভয় বা আতঙ্ক নেই। ফলে অনেকেই কনডম বা সুরক্ষা ছাড়া শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছেন।

  • প্রযুক্তির প্রভাব: অনলাইন ডেটিং অ্যাপগুলোর ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে সঙ্গীর দ্রুত পরিবর্তন এবং মেলামেশার ধরন বদলে যাওয়াও রোগ বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।

  • স্বাস্থ্যখাতের বাজেট হ্রাস: অনেক ইউরোপীয় দেশেই যৌনরোগ প্রতিরোধে বাজেট কাটছাঁট করা হয়েছে। বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে পরীক্ষা করার সুবিধা কমে যাওয়ায় মানুষ সময়মতো চিকিৎসা নিচ্ছেন না।

ইসিডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বে এসব রোগের প্রাদুর্ভাব মূলত সমকামী বা উভকামী পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমানে বিষমকামী নারী-পুরুষদের মধ্যেও তা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে প্রজননক্ষম বয়সের নারীদের মধ্যে সিফিলিস আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় গর্ভজাত শিশুর দেহে ‘জন্মগত সিফিলিস’ ছড়ানোর হার প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় দেশগুলোকে অবিলম্বে বিনামূল্যে স্ক্রিনিং, প্রসূতিদের নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং সচেতনতামূলক জোরদার কর্মসূচি হাতে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন গবেষকেরা।

মন্তব্য করুন