পবিত্র কোরআনের কোন আয়াত শুনে কেঁদেছিলেন বিশ্বনবী (সা.)?

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ
পবিত্র কোরআনের কোন আয়াত শুনে কেঁদেছিলেন বিশ্বনবী (সা.)?

ইসলামী জীবন ডেস্ক: পবিত্র কোরআনুল কারিম নিজে তিলাওয়াত করার পাশাপাশি মনোযোগ দিয়ে অন্যের তিলাওয়াত শোনাও অন্যতম বরকতময় ইবাদত। অন্যের সুন্দর কণ্ঠে তিলাওয়াত শুনতে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ভীষণ ভালোবাসতেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর মুখে কোরআনের বিশেষ একটি আয়াত শুনে বিশ্বনবী (সা.) গভীর আবেগে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েছিলেন।

হাদিসের বিশুদ্ধ বিবরণ: বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— একবার মহানবী (সা.) আমাকে বললেন, “তুমি আমার সামনে কোরআনুল কারিম তিলাওয়াত করে শোনাও।”

আমি আরজ করলাম, “হে আল্লাহর রাসুল! আপনার ওপরই তো কোরআন নাজিল হয়েছে, আর আমি আপনার সামনে তিলাওয়াত করব?”

রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, “আমি অন্যজনের কাছ থেকে কোরআন তিলাওয়াত শুনতে ভালোবাসি।”

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ফলে আমি সুরা নিসা তিলাওয়াত করা শুরু করলাম। তিলাওয়াত করতে করতে যখন আমি সুরা নিসার ৪১ নম্বর আয়াতে এসে পৌঁছলাম—

فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَىٰ هَٰؤُلَاءِ شَهِيدًا

‘তখন তাদের কী অবস্থা হবে, যখন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে একজন সাক্ষী (নবী ও রাসুল) উপস্থিত করব এবং তোমাকেও তাদের ওপর সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব?’

তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, “যথেষ্ট হয়েছে, থামো।” আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম, প্রিয় নবী (সা.)-এর উভয় মোবারক চোখ দিয়ে অনবরত অশ্রু বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৫৮২; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮৬৭)

এই ঘটনা থেকে অর্জনযোগ্য শিক্ষা ও বিধান

১. অন্যের তিলাওয়াত শোনা ইবাদত: নিজে তিলাওয়াত করার পাশাপাশি সুন্দর কণ্ঠে অন্যের কোরআন পাঠ শোনাও সুন্নাত ও সওয়াবের মাধ্যম।

২. ঈমানের আলামত: কোরআনের আয়াত শুনে অন্তরে প্রভাব পড়া ও চোখ দিয়ে পানি আসা ঈমানি শক্তির বহিঃপ্রকাশ।

৩. কোরআনের অনুধাবন (তাদাব্বুর): মহানবী (সা.) কেবল শব্দের তিলাওয়াত শোনেননি, বরং আয়াতের গভীর অর্থ ও কিয়ামতের ভয়াবহ পরিণতির কথা হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন।

৪. উম্মতের প্রতি অপরসীম দয়া: কিয়ামতের দিন বিচারকার্যে উম্মতের ওপর সাক্ষ্য দিতে হবে— এই গুরুদায়িত্ব ও উম্মতের পরিণতির কথা চিন্তা করেই তিনি কেঁদেছিলেন।

৫. ঈমান বৃদ্ধি ও হৃদয় কোমল হওয়া: কোরআনের অর্থ বুঝে তিলাওয়াত শুনলে মানুষের কঠোর অন্তর নরম হয় এবং আখিরাতের জবাবদিহির অনুভূতি জেগে ওঠে।

৬. গুনাহ থেকে বাঁচার প্রেরণা: কিয়ামতের দিনের কঠিন হিসাব এবং আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হওয়ার ভয় মুমিনকে সব ধরনের পাপ কাজ থেকে দূরে রাখে।

মন্তব্য করুন