আজ বিশ্ব সাপ দিবস

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ অপরাহ্ণ
আজ বিশ্ব সাপ দিবস

জীবনযাপন ডেস্ক: সাপ দেখলেই চমকে ওঠেন বা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন না— এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। যুগ যুগ ধরে মানবসভ্যতা ও লোককথায় সাপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ভয়, রহস্য এবং নানাবিধ অনাকাঙ্ক্ষিত কুসংস্কার। পুরাণ, ধর্মীয় রূপকথা ও সাহিত্য-সিনেমায় সাপকে কখনো ভয়ংকর হিংস্র প্রাণী, আবার কখনো অলৌকিক শক্তি বা পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে আধুনিক বিজ্ঞান ও জীববৈচিত্র্য বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তব সত্য হলো— সাপ প্রকৃতির শত্রু নয়, বরং পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অন্যতম সেরা ভূমিকা পালন করা এক অনন্য উপকারী প্রাণী।

সাপকে ঘিরে মানুষের মনের ভুল ধারণা ও অবৈজ্ঞানিক কুসংস্কার দূর করা এবং একই সঙ্গে প্রাণীটির সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বিশ্ববাসীকে বোঝাতে প্রতিবছর ১৬ জুলাই পালিত হয় ‘বিশ্ব সাপ দিবস’ (World Snake Day)

বিশ্বজুড়ে সাপের রয়েছে হাজারো রঙের ও রূপের প্রজাতি। একমাত্র অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ ছাড়া পৃথিবীর পাহাড়-পর্বত, গহিন বন, শুষ্ক মরুভূমি, জলাভূমি এবং অগভীর সমুদ্রেও সাপের বিচরণ দেখা যায়।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সাপের ৩ হাজার ৫০০টিরও বেশি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাসের বিপরীতে সত্যটি হলো— সব সাপ কিন্তু বিষধর নয়। শনাক্ত হওয়া প্রজাতির মধ্যে খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশের সাপ মানুষের জন্য বিপজ্জনক বা বিষধর হয়ে থাকে। অধিকাংশ প্রজাতির সাপই অবিষধর এবং তারা মানুষের সংশ্রব এড়িয়ে নিজেদের স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পছন্দ করে।

পরিবেশবিদদের মতে, সাপকে প্রকৃতির সবচেয়ে দক্ষ ও প্রাকৃতিক 'শিকারি' বলা চলে। তারা ক্ষতিকর ইঁদুর ও অন্যান্য ক্ষতিকারক ছোট প্রাণীর বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ইঁদুর যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ে, তবে তা কৃষকের ফসলের চরম ক্ষতির কারণ হয় এবং নানা ধরনের মহামারী ও সংক্রামক রোগ ছড়ায়।

সাপ প্রাকৃতিক উপায়ে এসব ক্ষতিকারক প্রাণীকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে ফসলের খেত রক্ষা করে এবং ইকোসিস্টেমের সঠিক সামঞ্জস্য টিকিয়ে রাখে। তাই বিশ্ব সাপ দিবসে পরিবেশপ্রেমীদের আহ্বান— না জেনে বা অহেতুক আতঙ্কে সাপ হত্যা বন্ধ করতে হবে এবং প্রকৃতির এই দরকারী বন্ধুকে রক্ষায় সচেতন হতে হবে।

মন্তব্য করুন