গ্রাহকেরা টাকা ফেরত পাবেন, লুটেরাদের সম্পদ নিলাম হবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ণ
গ্রাহকেরা টাকা ফেরত পাবেন, লুটেরাদের সম্পদ নিলাম হবে: অর্থমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক: খেলাপি ঋণে ধুঁকতে থাকা ব্যাংকগুলোর গ্রাহকেরা সুদসহ তাঁদের পুরো টাকা ফেরত পাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ব্যাংক দেউলিয়া হলে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে ‘হেয়ার কাট’ নামের যে বিধান রয়েছে, তা কার্যকর হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটু ধৈর্য ধরলে আমানতকারীরা তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ সুদসহ ফেরত পাবেন।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারা অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু এই মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশটি উত্থাপন করেন।

সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু তাঁর নোটিশে বলেন, “মানুষ কষ্টার্জিত আয় ব্যাংকে রেখে এখন তুলতে পারছে না। চিকিৎসার অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। অথচ লুটেরা মালিকপক্ষ বিদেশে পালিয়ে আরামে জীবন কাটাচ্ছে। ব্যাংকখেকো মালিকদের কঠোর শাস্তি দিয়ে তাদের সমস্ত সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হোক।”

জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী একে একটি ‘হৃদয়বিদারক ঘটনা’ উল্লেখ করে বলেন, আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করতে ইতিমধ্যে পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। ‘আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬’-এর মাধ্যমে সুরক্ষিত আমানতের পরিমাণ এক লাখ থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পাঁচ ব্যাংকের বিনিয়োগ অনিয়মে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী ব্যক্তিদের সব সম্পত্তি ও তহবিল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা বিক্রি ও নিলামের মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা উদ্ধার করা হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা খেলাপি ঋণের টাকা ফিরিয়ে আনতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক ‘নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করেছে। ‘নো উইন, নো ফি’ শর্তে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, শিকদার, নাসা ও ওরিয়েন্ট গ্রুপের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি চুক্তির মধ্যে ৬টির বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

একপর্যায়ে রেহেনা আক্তার রানু ঋণখেলাপিদের বিদেশ থেকে ধরে এনে ‘থেরাপি’ দেওয়ার দাবি জানান এবং ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতিকে ‘মরণকাট’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী হেসে বলেন, “আমানতকারীদের টাকা সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে, তবে লোকসানি ব্যাংকগুলোর বর্তমান বাস্তবতায় সময়ের প্রয়োজন। এই ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে হেয়ারকাট পদ্ধতি থাকবে না, তা বাদ দেওয়া হবে।”

এদিকে ৭১ বিধির আওতায় অপর এক নোটিশের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আজম খান জানান, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ দিয়ে চাকরি নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেসব অমুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের ওয়ারিশ জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিভিন্ন চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের চাকরিচ্যুতিসহ আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে আলোচনা উত্থাপন করতে গিয়ে এনসিপির আখতার হোসেন বলেন, বিগত দেড় দশকে প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে ভুয়া কোটায় বিশালসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছেন। একটি পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত ৯০ হাজার ৫২৭ জনের সনদ যাচাই-বাছাইকালে ইতিমধ্যে অন্তত ৮ হাজার জনের সনদে জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। এই চক্রকে দ্রুত চাকরিচ্যুত না করা হলে তারা রাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন