৪ বিভাগে বন্যার আশঙ্কা, অব্যাহত থাকবে বৃষ্টি
অনলাইন ডেস্ক ঃ অব্যাহত ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের অন্তত চারটি বিভাগে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এদিকে, পার্বত্য অঞ্চলসহ কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে গত তিন দিনে পাহাড়ধসের ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার আরও সাতজনসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এখনই এই বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই ভারি বৃষ্টিপাত আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র দেশের চার বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যার আশঙ্কা ও সতর্কবার্তা জারি করেছে।
যেসব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে:
বর্তমানে বান্দরবান ও কক্সবাজারের সাঙ্গু নদী ও লামার মাতামুহুরী নদী, মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদী, হবিগঞ্জের খোয়াই নদী এবং সুনামগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর পানি বিভিন্ন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
চার বিভাগের বন্যা সতর্কতা ও পূর্বাভাস:
চট্টগ্রাম বিভাগ: গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরীসহ প্রধান নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অপরদিকে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ: এই দুই বিভাগের নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। আগামী তিন দিন সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কোথাও কোথাও অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
রংপুর বিভাগ: রংপুর বিভাগের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল আছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।
বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের বিশেষ সতর্কতা:
বন্যা তথ্য কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দুই দিন সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
ভারতের উত্তর-পশ্চিম মধ্য প্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙাামাটি ও খাগড়াছড়ি—এই পাঁচ জেলায় পাহাড়ধসের বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার পর্যন্ত এই জেলাগুলোতে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
|