৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব : আশা অর্থমন্ত্রীর

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ণ
৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব : আশা অর্থমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব হবে বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এই চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি প্রস্তুত আছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নবনির্মিত এনবিআর ভবনে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে আগামীতে রাজস্ব আদায় বেশ ভালো হবে। এনবিআরের সবাই নতুন উদ্যমে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। আমরা চলতি অর্থবছরের বাজেটে যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, তা সফলভাবে পূরণ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) মোট ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আদায় করতে হবে। এই মেগা লক্ষ্যমাত্রাটি সদ্য সমাপ্ত বা বিদায়ী অর্থবছরের প্রকৃত আদায়ের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি।

অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট শুল্ক ও কর বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদায়ী অর্থবছরে ঘাটতি কত হতে পারে?

এদিকে সদ্য বিদায়ী (২০২৫-২৬) অর্থবছরে চূড়ান্ত রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে বলে মনে করছে এনবিআর। এর আগে সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, গত জুন শেষে সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। এই বছর এনবিআরের শুল্ক–কর আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্য ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআরের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের ২০ জুন পর্যন্ত (১১ মাস ২০ দিন) শুল্ক-কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ Back ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল জুনের প্রথম ২০ দিনেই আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। জুনের শেষ ১০ দিনে আরও অন্তত ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় হতে পারে বলে ধারণা করছে এনবিআর। তবে সংস্থাটি এখনো বিদায়ী অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। সব মিলিয়ে, ঘাটতি থাকলেও বিদায়ী অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে এনবিআর।

বিটিএমএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক

এনবিআরের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের একই দিনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও শিল্প খাতের বিভিন্ন চলমান সংকট, দাবি ও সমস্যা নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

বিটিএমএর সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী পরে সাংবাদিকদের বলেন, “দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের নিয়মিত আলোচনা চলছে। ঠিক কোন কোন জায়গায় কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে এবং কীভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় তার টেকসই সমাধান করা যায়, সে বিষয়গুলো নিয়েই আমরা কাজ করছি।”

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, বিটিএমএর পক্ষ থেকে সুতা ও বস্ত্র খাতের বেশ কয়েকটি দাবি ও সমস্যা বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু নীতিগত বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে বৈঠকেই সমাধান করে দেওয়া হয়েছে, আর বাকি জটিল বিষয়গুলো সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।

দেশের সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল বা ‘ডিরেগুলেশন’-এর কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। যেসব সমস্যা বা বাধা এখনো রয়ে গেছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।”

মন্তব্য করুন