ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে কেনাকাটা জায়েজ নয়: তকি উসমানী

প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ অপরাহ্ণ
ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে কেনাকাটা জায়েজ নয়: তকি উসমানী

বিশেষ প্রতিবেদক: ভার্চুয়াল মুদ্রা ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’ দিয়ে যেকোনো ধরনের পণ্য বা সেবা কেনাবেচা ইসলামি শরিয়াহ আইন অনুযায়ী জায়েজ (বৈধ) নয় বলে ফতোয়া দিয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি স্কলার ও পাকিস্তানের প্রখ্যাত ফকিহ মুফতি মুহাম্মদ তকি উসমানী। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ পর্যালোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে এই ফতোয়া জারি করা হয়েছে। ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়, ইসলামি আইনের (শরিয়াহ) দৃষ্টিতে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ‘মাল’ বা সম্পদ হিসেবে গণ্য করা যায় না। কারণ এটি কোনো বাস্তব অস্তিত্বসম্পন্ন মুদ্রা নয়, বরং মূলত একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে থাকা কিছু কাল্পনিক সংখ্যার ইলেকট্রনিক নথি মাত্র। ফলে শরিয়াহ আইন অনুযায়ী ক্রিপ্টোকারেন্সির নিজস্ব কোনো আর্থিক বা সম্পদের মর্যাদা নেই।

মুফতি তকি উসমানী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বৈশ্বিক লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ইউএসডিটি (টেথার), বিটকয়েন কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের ক্রিপ্টো টোকেন বা ডিজিটাল কারেন্সি ব্যবহার করা হোক না কেন—এর বিনিময়ে পণ্য বা সেবা কেনা শরিয়তসম্মত হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফতোয়াটি ছড়িয়ে পড়ার পর এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে হাসান উসমানী। তিনি জানান, ভাইরাল হওয়া ফতোয়াটি সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য এবং এটি প্রকৃতপক্ষে মুফতি তকি উসমানী নিজেই জারি করেছেন।

সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, মূলত এক ব্যক্তির লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই ফতোয়াটি দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তি মুফতি উসমানীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, তিনি ক্রিপ্টো টোকেন ও ইউএসডিটি ব্যবহার করে এক বিক্রেতার কাছ থেকে দুটি বই কিনেছেন; এই লেনদেন ধর্মীয়ভাবে বৈধ কি না এবং বৈধ না হলে এখন তাঁর করণীয় কী। সেই প্রশ্নের প্রেক্ষিতেই ইসলামি আইনের এই ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন