জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সুস্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১১ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (১০ জুলাই) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে জানান, জনমিতিক সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণ, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদার এবং নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমাদের উন্নয়ন-অভিযাত্রার অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের সুপ্ত সম্ভাবনাকে জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা। সেই লক্ষ্যে শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনাকে সমন্বিত করে সরকার বহুমাত্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।” এ বছরের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ আমাদের জাতীয় উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন একটি প্রজন্মের ওপর, যারা হবে শিক্ষিত, দক্ষ, প্রযুক্তিবান্ধব, সুস্থ, মানবিক ও উদ্ভাবনী। তরুণদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বিকাশে রাষ্ট্রকে এমন একটি উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা লাভ করবে এবং নিজেদের ইচ্ছা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে নিরাপদ ও সুখী পরিবার গড়ে তুলতে পারবে।
আজকের তরুণরাই তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে প্রত্যেক তরুণ-তরুণী যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখবে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত হলে তরুণরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, একটি উন্নত জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সুস্থ জনগোষ্ঠী। সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার সবার জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
তবে বাল্যবিয়ে, কিশোরী মাতৃত্ব এবং অপুষ্টির মতো সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো এখনো তরুণ প্রজন্মের অগ্রযাত্রার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এসব সমস্যা শুধু একজন কিশোরী বা একটি পরিবারের নয়; এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতার ওপর। এই কারণে সরকার বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং জীবনদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা জোরদারে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।”
পরিশেষে, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী ও বিশেষ করে নবীন প্রজন্মকে এই দিবসের চেতনা ধারণ করে সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ নির্মাণে সক্রিয় অংশীদার হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
এআইএল/সকালবেলা
|