অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশে একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ) সমাজ তৈরির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, “সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত শিশু-কিশোররা যেন চমৎকার পরিবেশে নিজেদের সংশোধন করে দেশের মূল স্রোতোধারার সাথে মিশে যেতে পারে।” এই উদ্দেশ্যে দেশের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত প্রকৃত সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী ৫০ বছরের জন্য একটি দূরদর্শী মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান) প্রণয়নের ওপর জোর দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ১০তলা বিশিষ্ট ‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক)-এর অ্যাকাডেমিক কাম ডরমেটরি ভবন’-এর নির্মাণ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক বিশেষ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “এই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের কোনো অপরাধী হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং তাদের এখানে আনা হয় সুন্দর জীবনের পথে সংশোধনের জন্য। তারা যেন একটি চমৎকার, মানবিক ও উপযুক্ত পরিবেশের মধ্য থেকে নিজেদের ভুলত্রুটি পুরোপুরি সংশোধন করার সুযোগ পায় এবং ভবিষ্যতে সমাজের সুস্থ, স্বাভাবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে ফিরে আসতে পারে, সেজন্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাইকে একসাথে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।”
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে টঙ্গীর এই কেন্দ্রটিতে প্রায় ৭৬০ জন শিশু ও কিশোর অবস্থান করছে। তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী করতে ক্ষুদ্র পরিসরে আধুনিক কৃষি কাজও শেখানো হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে মুক্তির পর সমাজের কর্মক্ষম জনবল হিসেবে অবদান রাখতে পারে।
পরিদর্শন ও পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী কেন্দ্রের সামগ্রিক আধুনিকায়ন, শিশুদের নিবিড় নিরাপত্তা এবং পুষ্টি নিশ্চিতকরণে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি নির্মাণাধীন ১০তলা ভবনের নকশা (ডিজাইন) পর্যালোচনাকালে প্রতিবন্ধী শিশুদের যাতায়াতের বিশেষ সুবিধার্থে ভবনে আন্তর্জাতিক মানের ‘র্যাম্প’ নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা হিসেবে নতুন ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং যেকোনো ধরনের জরুরি অগ্নি-দুর্ঘটনা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করতে আধুনিক ‘ফায়ার হাইড্রেন্ট’ স্থাপন করারও তাগিদ দেন। এছাড়া শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য কেন্দ্রের ভেতর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত খেলার মাঠ তৈরি এবং শিশুরা যাতে আনন্দের মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করতে পারে, সেজন্য শিশুদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশনা দেন। একই সাথে তিনি শিশুদের মাঝে সুস্থ ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারেও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নির্দেশ দেন যে, কেন্দ্রে ডিউটিরত আনসার সদস্যদের কোনো অবস্থাতেই শিশুদের সামনে কোনো ধরনের খোলা আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন বা ভীতি ছড়াতে পারে এমন জিনিসপত্র রাখা যাবে না। কেন্দ্রে অবস্থানরত শিশুরা যাতে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা পায়, সে লক্ষ্যে কেন্দ্রকে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করার নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে কেন্দ্রে নিয়োজিত ডাক্তারদের নিয়মিত সেবাদানে উদ্বুদ্ধ করতে তাদের বিদ্যমান সম্মানি বা ভাতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেন।
এছাড়া শিশুরা যাতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফ্যাট সমৃদ্ধ সুষম ও পুষ্টিকর খাবার পায় তা নিশ্চিত করতে তিনি কেন্দ্র প্রধানকে কড়া নির্দেশ দেন। প্রয়োজনে শিশুদের খাবারের জন্য সরকার থেকে যে দৈনিক বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা যেন বর্তমান বাজারের মূল্যস্ফীতির (ইনফ্লেশন) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও যৌক্তিক করা হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সভায় উপস্থিত সমাজকল্যাণ সচিবকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন মন্ত্রী।
টঙ্গীর এই উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক शाह মোহাম্মদ মাহ্বুবসহ স্থানীয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী দপ্তর ও নির্মাণ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
|